ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে শনাক্ত: : আইডিএফ রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইরান জেরুজালেমসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনবরত বাজছে যুদ্ধকালীন সতর্কতা সাইরেন, আকাশসীমা বন্ধ তেহরানসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যুদ্ধ ফের তীব্র হওয়ার শঙ্কা ভুটানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশ ফিলিপাইনের ভূমিকম্পের জেরে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুনামি

বাংলাদেশেই কেন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা?

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১২:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৩
  • ২৫৬ Time View

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩। কয়েক দিন আগেই দেশী-বিদেশী মুসল্লিতে কানায় কানায় ভরে গেছে ইজতেমা ময়দান। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বিশ্ব ইজতেমায়।

আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রাহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিনি বাড়তে থাকে তাবলিগের প্রচার-প্রসার ও ব্যাপকতা। তাবলিগের সাথী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়।

কিন্তু কিভাবে এই বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের হলো? প্রতি বছর বাংলাদেশেই কেন অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা। বিষয়টি নিয়ে জানার আগ্রহ সবার।

মূলত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভির রহ: হাত ধরে উপমহাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সূচনা হয় ১৯২৭ সালে ভারতে। পরে মাওলানা আবদুল আজিজের মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে শুরু হয় তাবলিগের কাজ। পরে এ কাজ ধীরে ধীরে আরো ব্যাপক হয়ে পড়লে এলাকাভিত্তিক সম্মেলনের পদক্ষেপ নেন মাওলানা ইলিয়াস রহ:।

বিশেষ করে ১৯৪৫ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ভিন্ন ভিন্নভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠানের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাকরাইল, ভারতের ভুপাল এবং পাকিস্তানের রাইবেন্ডে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্মীয়, সামাজিকসহ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের ইজতেমার আয়তন অন্য দুই ইজতেমার চেয়ে বেশি ছিল।

বাংলাদেশে তাবলিগ
১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশে তাবলিগের দাওয়াতি কাজ শুরু হয়। আর তা ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন সময়ে মাওলানা আব্দুল আজিজ (রাহ.) বাংলাদেশে ইজতিমার হাল ধরেন। তখন থেকেই বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা আরম্ভ হয়।

বিশ্ব ইজতেমা
তাবলিগের প্রচার-প্রচারণা দিন দিন প্রসারিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে তাবলিগের সাথী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সংখ্যা।

এ কারণে ৮ বছর পর ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতিমা আয়োজন করা হয়। সে বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলিগের এ ইজতেমায় ধর্মপাণ মুসলমান ও তাবলিগের সাথীরা অংশ গ্রহণ করে। আর সে বছর থেকেই এ ইজতেমাকে বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে এ ইজতেমা।

১৯৬৬ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ‘কহর দরিয়া’খ্যাত তুরাগ নদীর উত্তর পূর্ব তীর সংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু জমি মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ ইজতেমা। যা বিশ্ব ইজতেমা নামে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

বিশাল ব্যাপ্তির আয়োজনের বাইরেও অধিকসংখ্যক লোকের অংশগ্রহণ, স্বল্প ব্যয়, ভিসার সহজলভ্যতা, সাধারণ মুসলমান তথা এলাকাবাসীর আন্তরিকতা, সামাজিক ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতাসহ সার্বিক অনুকূল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের ইজতেমা সারাবিশ্বের তাবলিগ জামাতের অনুসারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সমাদৃত হয়। ফলে ক্রমেই বাংলাদেশের ইজতেমাটি বিশ্ব ইজতেমায় পরিণত হয়।

কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব ইজতেমার স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল লটারির মাধ্যমে। তবে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই।

যেভাবে টঙ্গীতে ইজতেমা
বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে, কাকরাইল মসজিদে। ১৯৪৮ সালে সেটা চলে যায় চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে। ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। তবে দিন দিন ইজতেমায় অংশগ্রহণ করা লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের কাছের একটি মাঠে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

১৯৬৭ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জায়গা নিয়ে এই দৌড়াদৌড়ির অবসান হয় স্বাধীনতার পর। সে সময় সরকার তুরাগ পাড়ের ১৬০ একর জমি এই ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়। সেই থেকে টঙ্গীর তুরাগ পাড়ই হয়ে ওঠে ইজতেমার ঠিকানা।

Tag :

হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

বাংলাদেশেই কেন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা?

Update Time : ১২:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৩

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩। কয়েক দিন আগেই দেশী-বিদেশী মুসল্লিতে কানায় কানায় ভরে গেছে ইজতেমা ময়দান। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বিশ্ব ইজতেমায়।

আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রাহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিনি বাড়তে থাকে তাবলিগের প্রচার-প্রসার ও ব্যাপকতা। তাবলিগের সাথী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়।

কিন্তু কিভাবে এই বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের হলো? প্রতি বছর বাংলাদেশেই কেন অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা। বিষয়টি নিয়ে জানার আগ্রহ সবার।

মূলত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভির রহ: হাত ধরে উপমহাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সূচনা হয় ১৯২৭ সালে ভারতে। পরে মাওলানা আবদুল আজিজের মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে শুরু হয় তাবলিগের কাজ। পরে এ কাজ ধীরে ধীরে আরো ব্যাপক হয়ে পড়লে এলাকাভিত্তিক সম্মেলনের পদক্ষেপ নেন মাওলানা ইলিয়াস রহ:।

বিশেষ করে ১৯৪৫ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ভিন্ন ভিন্নভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠানের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাকরাইল, ভারতের ভুপাল এবং পাকিস্তানের রাইবেন্ডে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্মীয়, সামাজিকসহ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের ইজতেমার আয়তন অন্য দুই ইজতেমার চেয়ে বেশি ছিল।

বাংলাদেশে তাবলিগ
১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশে তাবলিগের দাওয়াতি কাজ শুরু হয়। আর তা ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন সময়ে মাওলানা আব্দুল আজিজ (রাহ.) বাংলাদেশে ইজতিমার হাল ধরেন। তখন থেকেই বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা আরম্ভ হয়।

বিশ্ব ইজতেমা
তাবলিগের প্রচার-প্রচারণা দিন দিন প্রসারিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে তাবলিগের সাথী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সংখ্যা।

এ কারণে ৮ বছর পর ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতিমা আয়োজন করা হয়। সে বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলিগের এ ইজতেমায় ধর্মপাণ মুসলমান ও তাবলিগের সাথীরা অংশ গ্রহণ করে। আর সে বছর থেকেই এ ইজতেমাকে বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে এ ইজতেমা।

১৯৬৬ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ‘কহর দরিয়া’খ্যাত তুরাগ নদীর উত্তর পূর্ব তীর সংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু জমি মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ ইজতেমা। যা বিশ্ব ইজতেমা নামে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

বিশাল ব্যাপ্তির আয়োজনের বাইরেও অধিকসংখ্যক লোকের অংশগ্রহণ, স্বল্প ব্যয়, ভিসার সহজলভ্যতা, সাধারণ মুসলমান তথা এলাকাবাসীর আন্তরিকতা, সামাজিক ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতাসহ সার্বিক অনুকূল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের ইজতেমা সারাবিশ্বের তাবলিগ জামাতের অনুসারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সমাদৃত হয়। ফলে ক্রমেই বাংলাদেশের ইজতেমাটি বিশ্ব ইজতেমায় পরিণত হয়।

কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব ইজতেমার স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল লটারির মাধ্যমে। তবে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই।

যেভাবে টঙ্গীতে ইজতেমা
বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে, কাকরাইল মসজিদে। ১৯৪৮ সালে সেটা চলে যায় চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে। ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। তবে দিন দিন ইজতেমায় অংশগ্রহণ করা লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের কাছের একটি মাঠে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

১৯৬৭ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জায়গা নিয়ে এই দৌড়াদৌড়ির অবসান হয় স্বাধীনতার পর। সে সময় সরকার তুরাগ পাড়ের ১৬০ একর জমি এই ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়। সেই থেকে টঙ্গীর তুরাগ পাড়ই হয়ে ওঠে ইজতেমার ঠিকানা।