প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তার সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একদিন বাংলাদেশেরও কোন উদ্যোক্তা বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কোর চালু করা ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ পুরস্কার পাবে।’
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে ইউনেস্কোকে বাংলাদেশের সকল জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হোক।’
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা শেষে সেটি সংসদে সর্বস্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে জাতিসঙ্ঘের কোনো অঙ্গসংস্থার প্রবর্তন করা প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার এটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উগান্ডার ‘মোটিভ ক্রিয়েশন লিমিটেড’ যারা এই পুরস্কারটা পেয়েছেন তারা তাদের যুবসমাজকে যেমন মেধা ও মনন বিকাশে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং যে যে কাজে অভ্যস্ত তাদের সে সুযোগটা সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। আমাদের বাংলাদেশেও সেভাবেই আমাদের যুব সমাজ এগিয়ে আসবে, কাজ করবে।
তিনি উদাহারণ দেন আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই থেকে ইয়াং বাংলা নামে যে উদ্যোগটা নেয়া হয়েছে বা স্টার্টআপ প্রোগ্রামের যে সুযোগ তার সরকার দিয়েছে সে সুযোগটা নিয়ে আমাদের যুব সমাজ তাদের মেধা ও মনন বিকাশের সুযোগ পাক এবং তারা এগিয়ে আসুক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু সম্মেলনে গিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের যে সাফল্য আমরা তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। আমরা নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে চাই। ভ্যাকসিন তৈরিতে যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো আপনাদের সরিয়ে দিতে হবে। এটা উন্মুক্ত করতে হবে। এটা জনগণের প্রাপ্য। এটা জনগণের সম্পদ হিসেবে দিতে হবে। যেন সারাবিশ্বের কোনো মানুষ এই ভ্যাকসিন থেকে দূরে না থাকতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ দিলে আমরাও ভ্যাকসিন উৎপাদন করবো। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। সেজন্য আমি জমিও কিনে রেখেছি। আমরা কিন্তু উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকে উগান্ডা যেমন এই পুরস্কার পেয়েছে ইনশাল্লাহ একদিন বাংলাদেশেরও কোন না কোন উদ্যোক্তা এই পুরস্কারটা পাবে।
এই সময় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর মেমোরি অব ওয়ার্ল্ডের প্রামাণ্য দলিলে অন্তভূক্ত করায় জাতিসঙ্ঘের অবদানকে স্মরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর নামে এই পুরস্কার প্রবর্তনে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো এবং তাদের সহযোগি বিভিন্ন সংগঠন, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের, আমির হোসেন আমু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নুরুল ইসলাম নাহিদ, কাজী নাবিল আহমেদ ও ওয়াশিকা আয়েশা খান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, ফখরুল ইমাম, এবং রুস্তম আলী ফরাজী, বিএনপি’র হারুনুর রশিদ বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করে থাকে ইউনেস্কো।
বাংলাদেশের প্রস্তাবে গত বছর ডিসেম্বরে ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরৎকালীন ২১০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এই পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গত বৃহস্পতিবার প্যারিসে প্রথমবারের মত ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র পুরস্কার দেয়া হয়।
উগান্ডার ‘মোটিভ ক্রিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন এই পুরস্কার পেয়েছে। প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার তুলে দেন।
এ পুরস্কার দেয়া হবে প্রতি দুই বছরে একবার, যার আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার ডলার।
সূত্র : বাসস
অনলাইন ডেস্ক 




















