ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের তিন পাশে ৫টি বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পাঁচটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এই ঘাঁটিগুলো সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের এই সময়ে ভারতের এমন তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই সরু করিডরটি নিয়ে ভারত বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ভারতীয় সামরিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও বাংলাদেশ এই ঘাঁটি নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে তবে ভারত তার পাল্টা প্রস্তুতি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সীমান্তে ইতোমধ্যেই তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে। এই পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করার প্রক্রিয়াও সেই বাড়তি সতর্কতারই অংশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ির বিমানঘাঁটিগুলো সংস্কার করা হবে। এর আগে কোচবিহার ও আসামের রূপসী বিমানবন্দর দুটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া এসব বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। লক্ষ্য হলো জরুরি মুহূর্তে এই রানওয়েগুলো ব্যবহার করে দ্রুত সেনা ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এসব বিমানঘাঁটির রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশেপাশে জনবসতি গড়ে ওঠার মতো কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন সামান্য মেরামতের মাধ্যমে এগুলোকে হেলিকপ্টার বা ছোট সামরিক বিমান ওঠানামার উপযোগী করা সম্ভব। সীমান্তের ওপারে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে এই পুরনো কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ায় এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
Tag :

বাংলাদেশের তিন পাশে ৫টি বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত

Update Time : ০৫:৫৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পাঁচটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এই ঘাঁটিগুলো সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের এই সময়ে ভারতের এমন তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই সরু করিডরটি নিয়ে ভারত বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ভারতীয় সামরিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও বাংলাদেশ এই ঘাঁটি নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে তবে ভারত তার পাল্টা প্রস্তুতি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সীমান্তে ইতোমধ্যেই তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে। এই পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করার প্রক্রিয়াও সেই বাড়তি সতর্কতারই অংশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ির বিমানঘাঁটিগুলো সংস্কার করা হবে। এর আগে কোচবিহার ও আসামের রূপসী বিমানবন্দর দুটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া এসব বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। লক্ষ্য হলো জরুরি মুহূর্তে এই রানওয়েগুলো ব্যবহার করে দ্রুত সেনা ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এসব বিমানঘাঁটির রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশেপাশে জনবসতি গড়ে ওঠার মতো কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন সামান্য মেরামতের মাধ্যমে এগুলোকে হেলিকপ্টার বা ছোট সামরিক বিমান ওঠানামার উপযোগী করা সম্ভব। সীমান্তের ওপারে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে এই পুরনো কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ায় এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।