ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাঙালির শোকের মাস আগস্ট, সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড

বাঙালির জাতির শোকের মাস আগস্ট শুরু হয়েছে আজ রোববার থেকে। এ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড।

১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে খুন হন।
বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলও হত্যার শিকার হন।
’৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।
আবার এই শোকের মাসেই আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্ম হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

বাঙালিরা তাকে হত্যা করবে- এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসই করতে পারেন নি। তিনি ভেবেছিলেন পাকিস্তানীরা তাকে মারেনি, বাঙালিরা তাকে মারবে না- এই বিশ্বাসটা তার মধ্যে ছিল।

রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেটা আজো আবিস্কার হয়নি। তবে একদিন সেটা নিশ্চয়ই আবিস্কার হবে। আমার এই মুহুর্তে একটাই কাজ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কে জড়িত, সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হলো এ দেশের ক্ষুধার্থ, নীরিহ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। আর সে লক্ষেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার রায়ের দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা জাতির পিতার বিচার কাজ করতে পেরেছি। মামলার দীর্ঘ শুনানীর পর যেদিন এই মামলার রায় হবে, ঠিক সেদিনই খালেদা জিয়া হরতাল ডেকেছিলেন। যাতে সেদিন কোর্ট না খুলে। বিচারক কোর্টে যেতে না পারে এবং এই মামলার রায় না দিতে পারে। সেজন্যই সেদিন বিএনপি হরতাল দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে সেদিন রায় হয়েছিল।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। আলোচনা সভার সঞ্চালণা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। এ সময় গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বাঙালির শোকের মাস আগস্ট, সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড

Update Time : ০৭:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১
বাঙালির জাতির শোকের মাস আগস্ট শুরু হয়েছে আজ রোববার থেকে। এ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড।

১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে খুন হন।
বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলও হত্যার শিকার হন।
’৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।
আবার এই শোকের মাসেই আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্ম হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

বাঙালিরা তাকে হত্যা করবে- এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসই করতে পারেন নি। তিনি ভেবেছিলেন পাকিস্তানীরা তাকে মারেনি, বাঙালিরা তাকে মারবে না- এই বিশ্বাসটা তার মধ্যে ছিল।

রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেটা আজো আবিস্কার হয়নি। তবে একদিন সেটা নিশ্চয়ই আবিস্কার হবে। আমার এই মুহুর্তে একটাই কাজ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কে জড়িত, সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হলো এ দেশের ক্ষুধার্থ, নীরিহ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। আর সে লক্ষেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার রায়ের দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা জাতির পিতার বিচার কাজ করতে পেরেছি। মামলার দীর্ঘ শুনানীর পর যেদিন এই মামলার রায় হবে, ঠিক সেদিনই খালেদা জিয়া হরতাল ডেকেছিলেন। যাতে সেদিন কোর্ট না খুলে। বিচারক কোর্টে যেতে না পারে এবং এই মামলার রায় না দিতে পারে। সেজন্যই সেদিন বিএনপি হরতাল দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে সেদিন রায় হয়েছিল।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। আলোচনা সভার সঞ্চালণা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। এ সময় গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়।