ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আসামি সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা; স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২ জুন ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ জুন ২০২৬ আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৫ ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে: বিআইডিডি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৫ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। আর ভোট পড়ার হার ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশে নেমে এলে এবং সংগঠিত ও আদর্শ ভোটারদের প্রভাব বেশি থাকলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চতুর্থ দফা বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

এর আগে তিনটি পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল বিআইডিডি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভোটের হার, দলভিত্তিক আসন বণ্টন, ভোটের হারের তারতম্যে ফলাফলের পরিবর্তন এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোট পড়তে পারে ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশ। সম্ভাব্য ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন পেতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ থেকে ২৮টি এবং অন্যান্য দল ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে।

বিআইডিডি জানিয়েছে, পূর্বাভাস তৈরিতে প্রচলিত জনমত জরিপের পাশাপাশি একটি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের ধারা নিরূপণ করা হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য যুক্ত করে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে ভোটদানের সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট দিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ভোট কাস্টিংয়ে সময় বাড়লে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দিতে পারেন, তাহলে সামগ্রিক ভোটের হার ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল আসন পেতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিজয়ী হতে পারেন। নির্বাচনে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে মাঝামাঝি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। গণভোটে বেশি সংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো কোনো দল পরিকল্পিতভাবে নিজস্ব ভোটারদের ধীরে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটাররা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। জোটগুলো নিজেদের কোর আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংঘাতে জড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

Tag :

দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা

ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে: বিআইডিডি

Update Time : ০৬:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশ হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। আর ভোট পড়ার হার ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশে নেমে এলে এবং সংগঠিত ও আদর্শ ভোটারদের প্রভাব বেশি থাকলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চতুর্থ দফা বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

এর আগে তিনটি পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল বিআইডিডি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভোটের হার, দলভিত্তিক আসন বণ্টন, ভোটের হারের তারতম্যে ফলাফলের পরিবর্তন এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোট পড়তে পারে ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশ। সম্ভাব্য ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন পেতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ থেকে ২৮টি এবং অন্যান্য দল ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে।

বিআইডিডি জানিয়েছে, পূর্বাভাস তৈরিতে প্রচলিত জনমত জরিপের পাশাপাশি একটি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের ধারা নিরূপণ করা হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য যুক্ত করে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে ভোটদানের সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট দিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ভোট কাস্টিংয়ে সময় বাড়লে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ভোট দিতে না পারার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি গড়ে ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দিতে পারেন, তাহলে সামগ্রিক ভোটের হার ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল আসন পেতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিজয়ী হতে পারেন। নির্বাচনে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে মাঝামাঝি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। গণভোটে বেশি সংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো কোনো দল পরিকল্পিতভাবে নিজস্ব ভোটারদের ধীরে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটাররা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। জোটগুলো নিজেদের কোর আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে সংঘাতে জড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।