ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ২৭১ Time View

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা আসনের আলোচিত এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

এছাড়া রাজ্যের আরও দু’টি বিধানসভা আসন- শমসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরেও ভোটগ্রহণ চলছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত ছিল এই দুই আসনের নির্বাচন।

বিধানসভা নির্বাচনে দল জিতলেও নিজ আসনে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও নিয়ম অনুযায়ী নতুন কোনো আসনে ছয় মাসের মধ্যে তাকে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় ছাড়তে হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ।

আনন্দবাজার জানায়, ১০ বছর আগে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথমবার বিধানসভায় গিয়েছিলেন মমতা। এর আগে বরাবর তিনি লোকসভার সাংসদ হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন।

মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসও আইনজীবী। সব মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই উপনির্বাচনে।

বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান মমতা। এক সময় এই শুভেন্দু ছিলেন মমতার ডান হাত।

গত মার্চ এবং এপ্রিল মাসে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। ২ মে ফল ঘোষণা করা হয়। মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯২ (প্রার্থীর মৃত্যুতে শমসেরগঞ্জ বা জঙ্গিপুরে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জিতে ক্ষমতায় ফেরে।

কিন্তু নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান মমতা। পরে ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে তার পরের ছয় মাসের মধ্যে তাকে জিতে আসতে হবে বিধানসভায়। সেই কারণেই ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন মমতা।

আগামী ৩ অক্টোবর নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে। মমতা যে জিতবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের কোনো সংশয় নেই। কিন্তু তৃণমূল তথা মমতার কাছে এই লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানের কারণে।

বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতার জন্যই তিনি কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়েছেন। শোভনদেবের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৭ হাজারের কিছু বেশি।

এই উপনির্বাচনে মমতার জয়ের ব্যবধান তার চেয়েও বেশি রাখতে চায় তৃণমূল। তবে পাশাপাশিই তাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে, উপনির্বাচনে এমনিতেই ভোট কম পড়ে। ভোট কম পড়লে জয়ের ব্যবধানও কম হবে। ফলে দিনের শেষ কত ভোট পড়ল, সেদিকেও নজর থাকবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের।

Tag :

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে

Update Time : ০৩:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা আসনের আলোচিত এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

এছাড়া রাজ্যের আরও দু’টি বিধানসভা আসন- শমসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরেও ভোটগ্রহণ চলছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত ছিল এই দুই আসনের নির্বাচন।

বিধানসভা নির্বাচনে দল জিতলেও নিজ আসনে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও নিয়ম অনুযায়ী নতুন কোনো আসনে ছয় মাসের মধ্যে তাকে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় ছাড়তে হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ।

আনন্দবাজার জানায়, ১০ বছর আগে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথমবার বিধানসভায় গিয়েছিলেন মমতা। এর আগে বরাবর তিনি লোকসভার সাংসদ হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন।

মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসও আইনজীবী। সব মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই উপনির্বাচনে।

বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান মমতা। এক সময় এই শুভেন্দু ছিলেন মমতার ডান হাত।

গত মার্চ এবং এপ্রিল মাসে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। ২ মে ফল ঘোষণা করা হয়। মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯২ (প্রার্থীর মৃত্যুতে শমসেরগঞ্জ বা জঙ্গিপুরে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জিতে ক্ষমতায় ফেরে।

কিন্তু নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান মমতা। পরে ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে তার পরের ছয় মাসের মধ্যে তাকে জিতে আসতে হবে বিধানসভায়। সেই কারণেই ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন মমতা।

আগামী ৩ অক্টোবর নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে। মমতা যে জিতবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের কোনো সংশয় নেই। কিন্তু তৃণমূল তথা মমতার কাছে এই লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানের কারণে।

বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতার জন্যই তিনি কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়েছেন। শোভনদেবের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৭ হাজারের কিছু বেশি।

এই উপনির্বাচনে মমতার জয়ের ব্যবধান তার চেয়েও বেশি রাখতে চায় তৃণমূল। তবে পাশাপাশিই তাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে, উপনির্বাচনে এমনিতেই ভোট কম পড়ে। ভোট কম পড়লে জয়ের ব্যবধানও কম হবে। ফলে দিনের শেষ কত ভোট পড়ল, সেদিকেও নজর থাকবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের।