ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ হত্যা: আড়াই মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা গ্রেফতার নেই, ২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল ফরিদপুরে মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ঔষধ ও সরঞ্জাম, অপসারনের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।। মানববন্ধন ওবিক্ষোভ ইরান যতদিন ইচ্ছা ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে: আইআরজিসি উপদেষ্টা ওয়াশিংটন ইরান নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবে এবং এর ফলাফল আসবে ‘সহজ অথবা কঠিন’: ট্রাম্প মদিনার বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা বাংলাদেশের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় আগুন, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ৪ অক্টোবর ২০২৬ ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬০৮

শর্তসাপেক্ষে ব্যাংক লেনদেনে কর আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা

ব্যবসায়ী মহল থেকে করপোরেট করহার কমানোর দাবির মধ্যে সকল প্রকার আয় ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার শর্তে আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা মিলেছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর ছাড়ের এ প্রস্তাব দেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর পর সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন।

পুঁজিবাজার ‘টেকসই’ করতে এ প্রস্তাব রেখে বাজেট পাসের জন্য অর্থমন্ত্রী বলেন, “লিস্টেড বা নন-লিস্টেড যে কোনো কোম্পানি তাদের সকল লেনদেন ব্যংকিং চ্যানেলে সম্পাদন করলে অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ কর সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি।

“এতে ক্যাশলেস লেনদেন সম্পাদনকারী যে সকল লিস্টেড কোম্পানি শেয়ার বাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোড করেছে তাদের কর হার নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হারের তুলনায় ৭.৫০ শতাংশ কম হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কেবলমাত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সকল লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করা হলে তাদের জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড় ছিল। নতুন এ প্রস্তাবের ফলে অন্য কোম্পানিও এ সুবিধার আওতায় এল।

বর্তমানে কোম্পানি করদাতার জন্য খাতভিত্তিক অনেকগুলো করহার কার্যকর রয়েছে। আয়কর আইনে সংজ্ঞায়িত কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর শর্ত ছাড়াই করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ। সেটি শর্ত পূরণে ২৫ শতাংশ হল।

পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং শর্ত পালন পালন করতে পারলে ২০ শতাংশ হারে কর দেওয়ার বিধান ছিল। এটিই রয়েছে।

পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর হয়নি–এমন তালিকাভুক্ত কোম্পানির বেলায় বর্তমানে এসব কোম্পানির জন্য করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ; শর্ত পূরণ করলে এই করহার হবে ২৫ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এটি রাখা হয়েছিল।

আরও যেসব সংশোধন এল

অর্থমন্ত্রী বলেন, “পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব আনছি: জিরো কুপন বন্ডের আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।”

প্রস্তাবিত বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথা না থাকলেও অর্থবিলে সংশোধনী আনা হয়েছিল; যেখানে গত দেড়দশক ধরে জিরো কুপন বন্ড থেকে আয়ের ওপর কর বসানো হয়, অর্থমন্ত্রী তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।

এছাড়াও যে কোনো পরিমান শেয়ার হস্তান্তরপূর্বক শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হলেই ২.৫ শতাংশ কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় করের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি; ব্যক্তি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় করের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি; মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।”

তিনি বলেন, “শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন যোগাতে ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে- যা বর্তমান বাজার সূচকের উত্থানের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। “এ খাতে সংষ্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

Tag :
জনপ্রিয়

ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ হত্যা: আড়াই মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা গ্রেফতার নেই,

শর্তসাপেক্ষে ব্যাংক লেনদেনে কর আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা

Update Time : ০১:২৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্যবসায়ী মহল থেকে করপোরেট করহার কমানোর দাবির মধ্যে সকল প্রকার আয় ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার শর্তে আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা মিলেছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর ছাড়ের এ প্রস্তাব দেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর পর সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন।

পুঁজিবাজার ‘টেকসই’ করতে এ প্রস্তাব রেখে বাজেট পাসের জন্য অর্থমন্ত্রী বলেন, “লিস্টেড বা নন-লিস্টেড যে কোনো কোম্পানি তাদের সকল লেনদেন ব্যংকিং চ্যানেলে সম্পাদন করলে অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ কর সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি।

“এতে ক্যাশলেস লেনদেন সম্পাদনকারী যে সকল লিস্টেড কোম্পানি শেয়ার বাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোড করেছে তাদের কর হার নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হারের তুলনায় ৭.৫০ শতাংশ কম হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কেবলমাত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সকল লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করা হলে তাদের জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড় ছিল। নতুন এ প্রস্তাবের ফলে অন্য কোম্পানিও এ সুবিধার আওতায় এল।

বর্তমানে কোম্পানি করদাতার জন্য খাতভিত্তিক অনেকগুলো করহার কার্যকর রয়েছে। আয়কর আইনে সংজ্ঞায়িত কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর শর্ত ছাড়াই করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ। সেটি শর্ত পূরণে ২৫ শতাংশ হল।

পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং শর্ত পালন পালন করতে পারলে ২০ শতাংশ হারে কর দেওয়ার বিধান ছিল। এটিই রয়েছে।

পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে হস্তান্তর হয়নি–এমন তালিকাভুক্ত কোম্পানির বেলায় বর্তমানে এসব কোম্পানির জন্য করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ; শর্ত পূরণ করলে এই করহার হবে ২৫ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এটি রাখা হয়েছিল।

আরও যেসব সংশোধন এল

অর্থমন্ত্রী বলেন, “পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব আনছি: জিরো কুপন বন্ডের আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।”

প্রস্তাবিত বাজেটে এ নিয়ে কোনো কথা না থাকলেও অর্থবিলে সংশোধনী আনা হয়েছিল; যেখানে গত দেড়দশক ধরে জিরো কুপন বন্ড থেকে আয়ের ওপর কর বসানো হয়, অর্থমন্ত্রী তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।

এছাড়াও যে কোনো পরিমান শেয়ার হস্তান্তরপূর্বক শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হলেই ২.৫ শতাংশ কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় করের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি; ব্যক্তি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর প্রদেয় করের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি; মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।”

তিনি বলেন, “শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন যোগাতে ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে- যা বর্তমান বাজার সূচকের উত্থানের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। “এ খাতে সংষ্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”