ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১৮ জুন ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জুন ২০২৬ ফরিদপুরে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএ -এর শিল্প বিরোধ উত্থাপন সভা জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’র ফরিদপুর জেলা ও বিভাগীয় সম্মেলন -কে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তির পরও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের দারুণ শুরু

স্বস্তিতে ভুগে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আবার বিপর্যয় আসতে সময় লাগবে না

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০১:১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • ২৯৯ Time View

২৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৫ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মারা গেছেন ৯ জন। নতুন শনাক্ত ২৩৭ জন। ২৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩১২ জন। গত প্রায় তিন সপ্তাহ পর গতকাল নতুন শনাক্ত রোগী ছাড়িয়ে গেছে ৩০০।

স্বস্তিতে ভুগে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আবার বিপর্যয় আসতে সময় লাগবে না বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এর নমুনা দেখা যাচ্ছে।

তারা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসায় মানুষের মনে ‘দেশে করোনা নেই’ ধারণা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে সময় নেবে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবারও চিত্র বদলে যেতে পারে।

২৯ অক্টোবর ৩০৫ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর। এরপর থেকে দৈনিক শনাক্ত ছিল ৩০০’র কম।

এদিকে, মহামারিকালে গত ২০ নভেম্বর প্রায় ২০ মাস পর করোনায় দেশের কেউ মারা যাননি। তবে এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরই ২১ নভেম্বর একদিনে সাতজনের মৃত্যুর কথা জানায় অধিদফতর।

তার পরদিন (২২ নভেম্বর) ২ জনের মৃত্যু হয়। পরের দুদিন তিনজন করে মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

অধিদফতরের তথ্যমতে, ২৪-২৫ নভেম্বর রোগী শনাক্তের হার ছিল এক দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৬ অক্টোবর চলতি বছরে প্রথমদিনের মতো শনাক্তের হার দুই এর নিচে নেমে আসে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ কমায় স্বাস্থ্যবিধিতে ঢিলেঢালা ভাব এসেছে। মানুষ মাস্ক পরছে না। শপিং মল, গণপরিবহন, বেসরকারি অফিস, রেস্তোরাঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় জুলাই দেশে দৈনিক শনাক্তর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতিসংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে জুলাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর মাস। এ মাসের প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুতে আগের দিনের রেকর্ড ভাঙ্গতে থাকে। এরইমধ্যে করোনাকালে একদিনে সর্বোচ্চ (২৮ জুলাই) রোগী শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। শনাক্তের হার উঠে যায় ৩২ শতাংশের বেশি। ভয়ানক জুলাইয়ের রেশ চলে আগস্ট পর্যন্ত।

এদিকে, ১৫-২২ নভেম্বর করোনায় নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু তার আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। কমেছে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা। ২২ নভেম্বর এমনটা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অধিদফতরের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে করোনাতে নতুন শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৮৭ জন। এর আগের সপ্তাহে এক হাজার ৪৮৮ জন। গত সপ্তাহে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন, তার আগের সপ্তাহে ২৭ জন। অর্থ্যাৎ,মৃত্যু বেড়েছে ১৪ দশমিক আট শতাংশ।

যে কোনও সময় সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। ইউরোপ-রাশিয়াতে ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চালু হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘নজরদারি বাড়াতে হবে, রোগী ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন যত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, আইসোলেশন ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা—এগুলো চালিয়ে যেতে হবে।’

Tag :

খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির

স্বস্তিতে ভুগে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আবার বিপর্যয় আসতে সময় লাগবে না

Update Time : ০১:১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১

২৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৫ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মারা গেছেন ৯ জন। নতুন শনাক্ত ২৩৭ জন। ২৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩১২ জন। গত প্রায় তিন সপ্তাহ পর গতকাল নতুন শনাক্ত রোগী ছাড়িয়ে গেছে ৩০০।

স্বস্তিতে ভুগে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আবার বিপর্যয় আসতে সময় লাগবে না বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এর নমুনা দেখা যাচ্ছে।

তারা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসায় মানুষের মনে ‘দেশে করোনা নেই’ ধারণা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে সময় নেবে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবারও চিত্র বদলে যেতে পারে।

২৯ অক্টোবর ৩০৫ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর। এরপর থেকে দৈনিক শনাক্ত ছিল ৩০০’র কম।

এদিকে, মহামারিকালে গত ২০ নভেম্বর প্রায় ২০ মাস পর করোনায় দেশের কেউ মারা যাননি। তবে এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরই ২১ নভেম্বর একদিনে সাতজনের মৃত্যুর কথা জানায় অধিদফতর।

তার পরদিন (২২ নভেম্বর) ২ জনের মৃত্যু হয়। পরের দুদিন তিনজন করে মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

অধিদফতরের তথ্যমতে, ২৪-২৫ নভেম্বর রোগী শনাক্তের হার ছিল এক দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৬ অক্টোবর চলতি বছরে প্রথমদিনের মতো শনাক্তের হার দুই এর নিচে নেমে আসে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ কমায় স্বাস্থ্যবিধিতে ঢিলেঢালা ভাব এসেছে। মানুষ মাস্ক পরছে না। শপিং মল, গণপরিবহন, বেসরকারি অফিস, রেস্তোরাঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় জুলাই দেশে দৈনিক শনাক্তর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতিসংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে জুলাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর মাস। এ মাসের প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুতে আগের দিনের রেকর্ড ভাঙ্গতে থাকে। এরইমধ্যে করোনাকালে একদিনে সর্বোচ্চ (২৮ জুলাই) রোগী শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। শনাক্তের হার উঠে যায় ৩২ শতাংশের বেশি। ভয়ানক জুলাইয়ের রেশ চলে আগস্ট পর্যন্ত।

এদিকে, ১৫-২২ নভেম্বর করোনায় নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু তার আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। কমেছে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা। ২২ নভেম্বর এমনটা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অধিদফতরের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে করোনাতে নতুন শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৮৭ জন। এর আগের সপ্তাহে এক হাজার ৪৮৮ জন। গত সপ্তাহে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন, তার আগের সপ্তাহে ২৭ জন। অর্থ্যাৎ,মৃত্যু বেড়েছে ১৪ দশমিক আট শতাংশ।

যে কোনও সময় সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। ইউরোপ-রাশিয়াতে ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চালু হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘নজরদারি বাড়াতে হবে, রোগী ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন যত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, আইসোলেশন ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা—এগুলো চালিয়ে যেতে হবে।’