করোনা সংক্রমণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত হবে না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে ঝুঁকি নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনার প্রকোপ বাড়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে অবনতির আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আগামী ১৩ জুন কিংবা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত খুলছে না দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে দীর্ঘ ১৪ মাসেরও বেশি সময় থেকে অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকরা। অনলাইনে কিছু পাঠ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হলেও বঞ্চিত হয়েছেন গ্রামের শিক্ষার্থীরা। তাই পরিকল্পিত উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে আন্দোলনও শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষা বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে করোনার থাবায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়েছে। টানা ১৪ মাস এই বন্ধের ফলে চরম ক্ষতির শিকার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক। সার্বিক পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা করে শিগগিরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার মত দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে সহসাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না এমন ইঙ্গিত দিয়ে শনিবার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে আমরা যে তারিখই নির্দিষ্ট করি না কেন, অবস্থা অনুকূলে না এলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা ঝুঁকি নেব না। আমরা অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছি। যদিও তার সীমাবদ্ধতা আছে, প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এখন আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গুরুত্ব দিয়েই আমরা প্রায় এক বছর দুই মাসের বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখেছি। কিন্ত জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। অনলাইনে পড়াশোনা চলছে। প্রতিদিনের অনলাইন পড়াশোনার মান এবং পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমরা সবাই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সারা পৃথিবীও অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করেছি, কিছুটা খুলেছি। আবার বাধ্য হয়ে বন্ধও করে দিয়েছি। যেখানে ষোলআনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব, সেখানে কিন্তু সেটি খুলে রাখেনি কেউ। আমরা বিস্তার পরিকল্পনা করেছি, কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যায়। আমাদের সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত নয়। ঈদযাত্রার কারণে সংক্রমণের হার আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বগামী। আমরা বলেছি ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে চাই। আমরা চেষ্টা করব। অনেক জায়গা থেকে চাপ আছে, অনেক আন্দোলনের ডাক আছে। তবে সেটি বৃহত্তর ছাত্রসমাজ বা অভিভাবক যারা আছেন, তাদের মতামত প্রতিফলিত করে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুলে দিতে চাই। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অবশ্যই করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। যখনই আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলি না কেন, আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে খুলতে পারব।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়টি এখন আর আমাদের নিজেদের হাতে নেই; এটা এখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পর্যায়ে। করোনার সংক্রমণ কমে আসার উপর নির্ভর করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি। এখন এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা কীভাবে নেয়া যায় সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজও চলছে। সেজন্য শিক্ষার্থীদের সিলেবাসও শর্ট করা হয়েছে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়ার জন্যও কাজ করছে।
অনলাইনে সবার ক্লাস নেয়া কী সম্ভব হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে বলা হলেও সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে কানেক্ট করা সম্ভব নয়। এটা বংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোথাও সম্ভব হচ্ছে না। আবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম কখনো স্বাভাবিক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না। করোনার পরিস্থিতির যদি আরো অবনতি হয় তাহলে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রমটা চালানো যায় সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের মানসিক সমস্যা চার থেকে আট গুণ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য সারা বিশ্বে এখন ব্যাক টু স্কুল প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সেই উদ্যোগ নেয়া উচিত।
অনলাইন ডেস্ক 























