বিএনপি জামায়াতসহ সমমনা দলের ডাকা হরতাল কর্মসূচিতে রাজধানীতে কমেছে গাড়ির চাপ। ফলে শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সিএনজি অটোরিকশা, রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে।
রোববার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর আসাদগেট, ফার্মগেট, মহাখালী, কারওয়ান বাজার, বাংলামটর, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়েছে।
মহাখালী মোড়ে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান রাহাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাসা থেকে রিক্সায় করে এখানে এসেছি। এসে দেখি রাস্তায় কোন বাস নেই। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষায় রয়েছি।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সোহেল রহমান। কর্মের তাগিদে ফার্মগেট এলাকা থেকে নিয়মিত যাতায়াত করেন রাজধানীর ব্যাংক পাড়া মতিঝিল এলাকায়। তবে প্রতিদিন বাসা থেকে এসেই গাড়ি পেলেও কিছুটা বিপাকে পড়েছেন আজকে। ৩০ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকেও উঠতে পারেননি কোন পরিবহনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ কাউন্টারই খোলা। কিন্তু টিকিট বেচাবিক্রি নেই। কাউন্টারে নেই যাত্রী। হাঁকডাক নেই কাউন্টারগুলোতে। অনেক বাস কাউন্টার দেখা গেছে বন্ধ।
কমফোর্ট লাইন (প্রা.) লিমিটেডের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ সুমন বলেন, যাত্রী না থাকার কারণে আমরা বাস ছাড়তে পারছি না। আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন বাসের স্টাফ, চালকদের বেতন দেয়া লাগে।
পূর্বাসা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী বাস কাউন্টারে দেখা যায়নি। যাত্রী হলে আমরা অবশ্যই বাস ছাড়বো।
সূর্যমুখী পরিবহনের ম্যানেজার সারওয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকে বসে আছি। যাত্রীর দেখা নেই। একটি বাস ছাড়তে হলে অন্তত ১৫/২০ জন যাত্রী লাগে। অবরোধ-হরতালে ক্ষতিটা বেশি পরিবহন শ্রমিকদের।
ময়মনসিংহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউন্টারে আসা কামাল নামে এক যাত্রী বলেন, ঢাকায় থাকি, বাড়িতে পরিবার। বউ অসুস্থতার খবর পেয়ে মহাখালীতে আসি। জানি হরতাল। তবুও যদি যায় কোনো বাস। এই আশা নিয়ে আসছিলাম কাউন্টারে। বাস থাকলেও যাচ্ছে না।
অনলাইন ডেস্ক 












