ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল: ওয়াশিংটন পোস্ট

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। কিন্তু হামাসকে কি আসলেই সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব? প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে আগেই বলা হয়েছে, ২ মাস ধরে হামলা চালানোর পরও হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল। আর এবার একই কথা বলল ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, হামাসকে কখনোই নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হবে না এবং ইসরাইল কেবলমাত্র সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে গাজায় আটক বন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে।

জেনেভায় জাতিসঙ্ঘে দেয়া এক বক্তৃতায় হামাসকে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হামাসকে নির্মূল করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, তেহরান-সমর্থিত হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার করেছে ইসরাইল। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই হামাসের হাতে আটক বন্দীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে বক্তৃতার সময় এসব কথা বলেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান।

বৈঠকের পরে ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সকল মন্ত্রীই একমত যে, ইসরাইলের চলমান হামলা এবং তারা যে গণহত্যা করে চলেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি উন্মুক্ত থাকতে হবে, গাজার প্রতিটি অংশে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে হবে এবং গাজার জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করতে হবে।’ এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত মাসে ইসরাইলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর কাছে অন্ততপক্ষে ‘সীমিত সময়ের জন্য’ সম্পর্ক ছিন্ন করার আবেদন করেছিলেন। এছাড়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে তেল ও খাদ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।

হামাসকে ইসরাইল নির্মূল করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট বলা হয়েছে, ২ মাস ধরে হামলা চালানোর পরও হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল।

গত ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত সেই রিপোর্টে বলা হয়, ৬৬ দিন যুদ্ধের পরও হামাসকে নির্মূলের ধারে-কাছেও যেতে পারেনি ইসরাইলি সেনারা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডসের ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছেন। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত যুদ্ধে ৫ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া হামাসকে ইসরাইল কিভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে তা নিয়েও ইতোমধ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে জর্ডান। গত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, হামাসকে ইসরাইল কিভাবে নিশ্চিহ্ন করবে; সেটি তারা বুঝতে পারছেন না। সেসময় তিনি বলেন, ‘ইসরাইল বলছে তারা হামাসকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে যায়। এখানে অনেক সামরিক ব্যক্তিবর্গ আছেন। আমি বুঝতে পারি না এ লক্ষ্য কিভাবে অর্জিত হবে।’

অবশ্য হামাসকে নির্মূল করতে না পারলেও; গাজার সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত গাজায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।

সূত্র : রয়টার্স

Tag :

হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল: ওয়াশিংটন পোস্ট

Update Time : ০৫:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। কিন্তু হামাসকে কি আসলেই সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব? প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে আগেই বলা হয়েছে, ২ মাস ধরে হামলা চালানোর পরও হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল। আর এবার একই কথা বলল ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, হামাসকে কখনোই নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হবে না এবং ইসরাইল কেবলমাত্র সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে গাজায় আটক বন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে।

জেনেভায় জাতিসঙ্ঘে দেয়া এক বক্তৃতায় হামাসকে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হামাসকে নির্মূল করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, তেহরান-সমর্থিত হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার করেছে ইসরাইল। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই হামাসের হাতে আটক বন্দীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে বক্তৃতার সময় এসব কথা বলেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান।

বৈঠকের পরে ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সকল মন্ত্রীই একমত যে, ইসরাইলের চলমান হামলা এবং তারা যে গণহত্যা করে চলেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি উন্মুক্ত থাকতে হবে, গাজার প্রতিটি অংশে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে হবে এবং গাজার জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করতে হবে।’ এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত মাসে ইসরাইলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর কাছে অন্ততপক্ষে ‘সীমিত সময়ের জন্য’ সম্পর্ক ছিন্ন করার আবেদন করেছিলেন। এছাড়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে তেল ও খাদ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।

হামাসকে ইসরাইল নির্মূল করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট বলা হয়েছে, ২ মাস ধরে হামলা চালানোর পরও হামাসকে নির্মূলের ধারেকাছে নেই ইসরাইল।

গত ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত সেই রিপোর্টে বলা হয়, ৬৬ দিন যুদ্ধের পরও হামাসকে নির্মূলের ধারে-কাছেও যেতে পারেনি ইসরাইলি সেনারা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডসের ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছেন। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত যুদ্ধে ৫ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া হামাসকে ইসরাইল কিভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে তা নিয়েও ইতোমধ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে জর্ডান। গত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, হামাসকে ইসরাইল কিভাবে নিশ্চিহ্ন করবে; সেটি তারা বুঝতে পারছেন না। সেসময় তিনি বলেন, ‘ইসরাইল বলছে তারা হামাসকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে যায়। এখানে অনেক সামরিক ব্যক্তিবর্গ আছেন। আমি বুঝতে পারি না এ লক্ষ্য কিভাবে অর্জিত হবে।’

অবশ্য হামাসকে নির্মূল করতে না পারলেও; গাজার সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত গাজায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।

সূত্র : রয়টার্স