ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে নতুন বার্তা, কবে কোথায় আঘাত হানতে পারে আঘাত? সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন চালু, বিশ্ববাজারে কমলো দাম সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে দেশে ২.০৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা ফরিদপুরের সালথায় ‎বিএনপি কর্মী হত্যা : জামিনে এসে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি, বিচারের দাবিতে তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালতে চত্বরে নিহতের স্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাড়ল বাসভাড়া নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়েছে আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে রোববার ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই মোতাবেক সোমবার থেকে পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে বলে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আজ সন্ধ্যায় বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মুনিম হাসান।

সভায় ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়,বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া গেছে।

আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকে। কিন্তু কেন?

আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপন

সফর মাসের শেষ বুধবার হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠার দিনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে ইবাদত ও উৎসব প্রচলিত তাই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি উদ্যোগে এ উৎসব-ইবাদত যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করে থাকেন।

পারসিক প্রভাবিত অঞ্চলসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দেশ ও অঞ্চলগুলোতে বহু যুগ ধরে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের সুফি-সাধকসহ দিল্লি সালতানাতের শাসকবর্গ রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই আখেরি চাহার সোম্বা পালন করতেন।

তবে বিশ্বব্যাপী দিনটি একযোগে যথাযথভাবে পালিত না হওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে অনেকেই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ উদযাপন ও তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, আখেরি চাহার সোম্বা পালনের বিষয়ে হাদিসের কোনো দলিল নেই কিংবা পরবর্তী সময়ে সাহাবায়ে কেরামও এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সাদকা করেছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তাই অনেকেই মনে করেন যে, যেহেতু সাহাবায়ে কেরামদের যুগ ও পরবর্তী সময়ে তা ছিল না, সে হিসাবে আখেরি চাহার সোম্বা ঘটা করে পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এ হিসেবে আজ ১৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ আগস্ট সোমবার থেকে ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে।
সূত্র : বাসস

Tag :

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে

Update Time : ০৩:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে রোববার ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই মোতাবেক সোমবার থেকে পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে বলে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আজ সন্ধ্যায় বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মুনিম হাসান।

সভায় ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়,বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া গেছে।

আখেরি চাহর শোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকে। কিন্তু কেন?

আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপন

সফর মাসের শেষ বুধবার হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠার দিনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে ইবাদত ও উৎসব প্রচলিত তাই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি উদ্যোগে এ উৎসব-ইবাদত যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করে থাকেন।

পারসিক প্রভাবিত অঞ্চলসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দেশ ও অঞ্চলগুলোতে বহু যুগ ধরে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের সুফি-সাধকসহ দিল্লি সালতানাতের শাসকবর্গ রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই আখেরি চাহার সোম্বা পালন করতেন।

তবে বিশ্বব্যাপী দিনটি একযোগে যথাযথভাবে পালিত না হওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে অনেকেই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ উদযাপন ও তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, আখেরি চাহার সোম্বা পালনের বিষয়ে হাদিসের কোনো দলিল নেই কিংবা পরবর্তী সময়ে সাহাবায়ে কেরামও এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সাদকা করেছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তাই অনেকেই মনে করেন যে, যেহেতু সাহাবায়ে কেরামদের যুগ ও পরবর্তী সময়ে তা ছিল না, সে হিসাবে আখেরি চাহার সোম্বা ঘটা করে পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এ হিসেবে আজ ১৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ আগস্ট সোমবার থেকে ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে।
সূত্র : বাসস