ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ও মুদ্রাস্ফীতির কবলে ব্রিটেন

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ও মুদ্রাস্ফীতির কবলে ব্রিটেন। তীব্র অভাবে খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। খাবারের পরিমাণ কমিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। সোমবার লন্ডনের হ্যাকনির ফুডব্যাংকে কয়েক শ’ মানুষ দাঁড়িয়ে থাকাই তার প্রমাণ। কুপন হাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় শুধু তিন দিনের খাদ্যের ঝুড়ি সংগ্রহের প্রত্যাশায়। যেন টিসিবির পণ্যের লাইনকেও হার মানায় ধনী রাষ্ট্র ব্রিটেনের ‘ফুডব্যাংক’-এর লাইন। তবে শুধু খাদ্যাভাবই যে ব্রিটিশদের একমাত্র আতঙ্কের বিষয়-তা নয়। ক্ষুধার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে শীত। গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের দেশে আসছে শীতে কি বেছে নেবেন ব্রিটিশরা-খাদ্য নাকি উষ্ণতা? এ নিয়েও রয়েছে বড় সংশয়।

চলমান এ সংকটে বিনামূল্যে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারায় দরিদ্র-মধ্যবিত্তরা এখন ‘ফুডব্যাংক’-কে ‘জীবন রক্ষাকারী’ বলেও অভিহিত করছেন। খাদ্য সংগ্রহ করতে আসা ৫১ বছর বয়সি মাইকেল কক্স বলেন, ‘দুদিন না খেয়ে থাকার পর আমি ফুডব্যাংকের খোঁজ করি। এর আগে কখনো চেয়ে খেতে হয়নি। কিন্তু বর্তমান সংকটে এটি আমার কাছে একদম জীবন রক্ষাকারী।’ ক্রমবর্ধমান বেড়ে চলা এই ফুডব্যাংক মৌলিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে থাকে। দিন দিন ব্রিটেনজুড়ে বেড়ে চলছে এর চাহিদাও।

ফুডব্যাংকের সুপারভাইজার জোহান একলুন্ড বলেন, জীবনযাত্রার সংকটের কারণে মানুষ বিল পরিশোধ করেতে পারছে না, খাবার পাচ্ছে না। এর মধ্যেই আসছে শীত। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের এ চরম মুহূর্তে খাদ্য নাকি উষ্ণতা-যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বিটিশদের। তিনি বলেন, এবারের শীত ব্রিটেনবাসীর জন্য একটি ভয়ংকর প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। গত শনিবার হ্যাকনির ফুডব্যাংকে সাহায্যের জন্য আগত লোকসংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে যা প্রাক-কোভিড সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নতুন একটি ফুডব্যাংক ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণরূপে চালু করার কথাও তিনি জানান।

হ্যাকনি ফুডব্যাংকের হেড অব সার্ভিসের তানিয়া হুইটফিল্ড বলেন, খুবই অদ্ভুতভাবে মানুষ এমন খাবার খুঁজছেন, যেটি রান্না করতে হবে না।

দেশটির ৩০০০ পরিবারের ওপর ভোক্তা সমিতি জরিপ চালিয়ে দেখেন ব্রিটেনের লাখ লাখ মানুষ খাবার এড়িয়ে চলছেন। প্রায় অর্ধেক পরিবারই আগের তুলনায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। সস্তা বিকল্প হিসাবে পাস্তা বাছাই করলেও এক বছরে পাস্তা ও উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ।

চলমান খাদ্য সংকটের মধ্যেই চমকে ওঠার মতো তথ্য প্রকাশ করল ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (বিপি)। ২৮ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, আর মাত্র ৯ দিনের গ্যাস মজুত আছে ব্রিটেনে। সে হিসাবে আজ থেকে আর মাত্র চারদিন চলার মতো গ্যাস আছে ব্রিটেনে। খবর মিরর ইউকের। বিপি জানিয়েছিল, ব্রিটেনের গ্যাসের মজুত একেবারে শেষের দিকে। এভাবে গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তারা বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘রাফ’ নামক একটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরোপুরি সফল হলে গ্যাস মজুত ৫০ শতাংশ বাড়বে। তবে এতেও শীতকালে গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসন হবে না। ইউরোপের অন্যান্য দেশের অবস্থাও তেমন সুবিধাজনক নয়। জার্মানিতে ৮০ দিনের জন্য গ্যাস মজুত রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের ৯৭ দিনের এবং নেদারল্যান্ডসের রয়েছে ১১৮ দিনের গ্যাস। এ অবস্থায় আগামী শীত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে ইউরোপের প্রায় সব দেশ। ব্রিটেনের ন্যাশনাল গ্রিড ইলেকট্রিসিটি সিস্টেম অপারেটর (ইএসও) আগেই জানিয়েছে, এই শীতে গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে তিন ঘণ্টার লোডশেডিং দেওয়া হতে পারে।

Tag :

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ও মুদ্রাস্ফীতির কবলে ব্রিটেন

Update Time : ০৩:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ও মুদ্রাস্ফীতির কবলে ব্রিটেন। তীব্র অভাবে খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। খাবারের পরিমাণ কমিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। সোমবার লন্ডনের হ্যাকনির ফুডব্যাংকে কয়েক শ’ মানুষ দাঁড়িয়ে থাকাই তার প্রমাণ। কুপন হাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় শুধু তিন দিনের খাদ্যের ঝুড়ি সংগ্রহের প্রত্যাশায়। যেন টিসিবির পণ্যের লাইনকেও হার মানায় ধনী রাষ্ট্র ব্রিটেনের ‘ফুডব্যাংক’-এর লাইন। তবে শুধু খাদ্যাভাবই যে ব্রিটিশদের একমাত্র আতঙ্কের বিষয়-তা নয়। ক্ষুধার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে শীত। গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের দেশে আসছে শীতে কি বেছে নেবেন ব্রিটিশরা-খাদ্য নাকি উষ্ণতা? এ নিয়েও রয়েছে বড় সংশয়।

চলমান এ সংকটে বিনামূল্যে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারায় দরিদ্র-মধ্যবিত্তরা এখন ‘ফুডব্যাংক’-কে ‘জীবন রক্ষাকারী’ বলেও অভিহিত করছেন। খাদ্য সংগ্রহ করতে আসা ৫১ বছর বয়সি মাইকেল কক্স বলেন, ‘দুদিন না খেয়ে থাকার পর আমি ফুডব্যাংকের খোঁজ করি। এর আগে কখনো চেয়ে খেতে হয়নি। কিন্তু বর্তমান সংকটে এটি আমার কাছে একদম জীবন রক্ষাকারী।’ ক্রমবর্ধমান বেড়ে চলা এই ফুডব্যাংক মৌলিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে থাকে। দিন দিন ব্রিটেনজুড়ে বেড়ে চলছে এর চাহিদাও।

ফুডব্যাংকের সুপারভাইজার জোহান একলুন্ড বলেন, জীবনযাত্রার সংকটের কারণে মানুষ বিল পরিশোধ করেতে পারছে না, খাবার পাচ্ছে না। এর মধ্যেই আসছে শীত। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের এ চরম মুহূর্তে খাদ্য নাকি উষ্ণতা-যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বিটিশদের। তিনি বলেন, এবারের শীত ব্রিটেনবাসীর জন্য একটি ভয়ংকর প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। গত শনিবার হ্যাকনির ফুডব্যাংকে সাহায্যের জন্য আগত লোকসংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে যা প্রাক-কোভিড সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নতুন একটি ফুডব্যাংক ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণরূপে চালু করার কথাও তিনি জানান।

হ্যাকনি ফুডব্যাংকের হেড অব সার্ভিসের তানিয়া হুইটফিল্ড বলেন, খুবই অদ্ভুতভাবে মানুষ এমন খাবার খুঁজছেন, যেটি রান্না করতে হবে না।

দেশটির ৩০০০ পরিবারের ওপর ভোক্তা সমিতি জরিপ চালিয়ে দেখেন ব্রিটেনের লাখ লাখ মানুষ খাবার এড়িয়ে চলছেন। প্রায় অর্ধেক পরিবারই আগের তুলনায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। সস্তা বিকল্প হিসাবে পাস্তা বাছাই করলেও এক বছরে পাস্তা ও উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ।

চলমান খাদ্য সংকটের মধ্যেই চমকে ওঠার মতো তথ্য প্রকাশ করল ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (বিপি)। ২৮ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, আর মাত্র ৯ দিনের গ্যাস মজুত আছে ব্রিটেনে। সে হিসাবে আজ থেকে আর মাত্র চারদিন চলার মতো গ্যাস আছে ব্রিটেনে। খবর মিরর ইউকের। বিপি জানিয়েছিল, ব্রিটেনের গ্যাসের মজুত একেবারে শেষের দিকে। এভাবে গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তারা বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘রাফ’ নামক একটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরোপুরি সফল হলে গ্যাস মজুত ৫০ শতাংশ বাড়বে। তবে এতেও শীতকালে গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিরসন হবে না। ইউরোপের অন্যান্য দেশের অবস্থাও তেমন সুবিধাজনক নয়। জার্মানিতে ৮০ দিনের জন্য গ্যাস মজুত রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের ৯৭ দিনের এবং নেদারল্যান্ডসের রয়েছে ১১৮ দিনের গ্যাস। এ অবস্থায় আগামী শীত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে ইউরোপের প্রায় সব দেশ। ব্রিটেনের ন্যাশনাল গ্রিড ইলেকট্রিসিটি সিস্টেম অপারেটর (ইএসও) আগেই জানিয়েছে, এই শীতে গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে তিন ঘণ্টার লোডশেডিং দেওয়া হতে পারে।