ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে, তেহরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি।

নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরাকে কী ঘটেছিল তা আপনারা দেখেছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত বাজে পারফর্ম করেছি। আমরা যা করেছি তা ছিল চরম বোকামি। সত্যি বলতে, শুরুতেই আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।

তবে ইরানে জড়ানো ভুল ছিল উল্লেখ করলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সেই সক্ষমতা (পরমাণু অস্ত্র তৈরির) রয়েছে। আমরা যদি আজ থেকে নয় মাস আগে তাদের ওপর বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত না করতাম, তবে এতক্ষণে তারা পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। আর তা হলে আজ পুরো গল্পটাই ভিন্ন হতো। তখন হয়তো আপনারা আজকের ইসরায়েলকে দেখতেন না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ত। এরপর তারা (ইরান) যে কোথায় গিয়ে থামত, কে জানে!

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানায়নি, বরং সচেতনভাবেই তাদের রেহাই দিয়েছে।

এর ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সামরিক বাহিনীকে একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছি। কারণ আমাদের মনে হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহনশীল। তবে সেখানে অন্যান্য কিছু পক্ষ রয়েছে যারা চরমপন্থি। আমরা কেবল তাদেরই নিশানা করেছি। আমরা ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরকে খতম করেছি, কিন্তু তাদের সামরিক বাহিনীকে স্পর্শ করিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, আমার এই কথা শুনলে মানুষ হয়তো অবাক হবে। কিন্তু অতীতে এমন অনেক যুদ্ধ হয়েছে যেখানে প্রতিপক্ষের সবকিছু একেবারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যার ফলে একটি দেশ পরবর্তী ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। আমরা সেই ভুল করতে চাইনি। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি: ট্রাম্প

মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি: ট্রাম্প

Update Time : ০৫:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে, তেহরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর বাগদাদ কিংবা তেহরান—কোথাও সামরিক অভিযানে যাওয়া ঠিক হয়নি।

নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরাকে কী ঘটেছিল তা আপনারা দেখেছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত বাজে পারফর্ম করেছি। আমরা যা করেছি তা ছিল চরম বোকামি। সত্যি বলতে, শুরুতেই আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।

তবে ইরানে জড়ানো ভুল ছিল উল্লেখ করলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সেই সক্ষমতা (পরমাণু অস্ত্র তৈরির) রয়েছে। আমরা যদি আজ থেকে নয় মাস আগে তাদের ওপর বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত না করতাম, তবে এতক্ষণে তারা পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। আর তা হলে আজ পুরো গল্পটাই ভিন্ন হতো। তখন হয়তো আপনারা আজকের ইসরায়েলকে দেখতেন না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ত। এরপর তারা (ইরান) যে কোথায় গিয়ে থামত, কে জানে!

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানায়নি, বরং সচেতনভাবেই তাদের রেহাই দিয়েছে।

এর ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সামরিক বাহিনীকে একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছি। কারণ আমাদের মনে হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহনশীল। তবে সেখানে অন্যান্য কিছু পক্ষ রয়েছে যারা চরমপন্থি। আমরা কেবল তাদেরই নিশানা করেছি। আমরা ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরকে খতম করেছি, কিন্তু তাদের সামরিক বাহিনীকে স্পর্শ করিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, আমার এই কথা শুনলে মানুষ হয়তো অবাক হবে। কিন্তু অতীতে এমন অনেক যুদ্ধ হয়েছে যেখানে প্রতিপক্ষের সবকিছু একেবারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যার ফলে একটি দেশ পরবর্তী ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। আমরা সেই ভুল করতে চাইনি। সূত্র: আল-জাজিরা