করোনার ঝুঁকি ও চৈত্র-বৈশাখ মাসের কাল বৈশাখি ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কাকে উপেক্ষা করে পর্দা উঠলো বাঙালির ভাষা-চেতনার দীপ্ত প্রকাশ অমর একুশে বইমেলার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে এবারের মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে। আর মেলার মূল প্রতিপাদ্য, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’।
রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর ভাষার মাসে শহীদরে স্মরণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই শুরু হয় বইমেলা। তবে এবছর বাঁধ সাজে করোনা মহামারী, তাই বত্যয় ঘটে চিরচারিত এ রীতির। তবে লেখক, প্রকাশক ও বইপ্রেমীদের তীব্র আকাঙ্খায় এতো সব ঝুঁকি উপেক্ষা করে দেড়মাস পিছিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বইমেলা। এদিন বিকেল ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাইকে বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সময় কাটাতেও কষ্ট হয় না। এখন মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমেও পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টিয়ে পড়ার আনন্দটাই আলাদা। এটা ডিজিটাল ডিভাইসে পাওয়া যায় না। কাজেই বইয়ের আবেদন কখনও শেষ হবে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসস,ইউএনবি ও বিডিনিউজের।
উদ্বোধনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের প্রবেশপথে অপেক্ষমাণ বইপ্রেমীদের মেলায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়। তবে প্রবেশপথে ছিল চার স্তরের নিরাপত্তা। এর মধ্যে মাস্ক পরা থাকলে মিলেছে এক স্তরের প্রবেশের অনুমতি। এরপর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা, স্যানিটাইজ করার পর সবশেষে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে মূল মেলায় ঢুকতে দেয়া হয় মেলায় আসা লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীদের। এছাড়া মেলার ভেতর ঢুকে পড়ার পর কেউ যেন মাস্ক খুলেছে কিনা সেটা নজরারিতে রাখে প্রশাসন ও একাডেমি কর্তৃপক্ষ। ভিড় এড়াতে স্টলের সামনে ছিল যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা এবং এক স্টল থেকে আরেক স্টলের দূরত্ব ছিল অনেক। মেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দোয়েল চত্বর-সর্বত্রই ছিল উৎসবের আবহ। তবে প্রথমদিনে মেলার স্টল ঘোছানোর কাজ শেষ করতে পারেননি অধিকাংশ প্রকাশকরা। অনেক স্টল ছিল বন্ধ।
সরেজমিনে বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, নানন্দিকভাবে সাজানো হয়েছে এবারের মেলা প্রাঙ্গণ। প্রথম দিনেই সুন্দরভাবে গুছিয়ে উঠেছে মেলা। স্টলে স্টলে বই। নেই ধুলোর বাড়াবাড়ি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটগুলো দিয়ে ঢুকলে প্রথমেই প্যাভিলিয়ন। তারপর সারি সারি স্টল। এবার প্যাভিলয়নের সংখ্যা বেড়েছে। যার কারণে মেলাও আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে।প্যাভিলিয়নগুলোকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে স্টল। চওড়া পথ হাঁটাচলায় এনে দিয়েছে স্বস্তি। সোহরাওয়ার্দি উদ্যান অংশে বইমেলাকে এতটাই সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে যে, এবার মেলায় ভিড়ে ঠেলাঠেলি করবার প্রয়োজন পড়বে না। মেলায় স্টলে স্টলে ঘুরে ক্লান্ত লাগলে আছে বসে জিরিয়ে নেবার বেঞ্চ। বাংলা একাডেমি এই বিন্যাসের জন্য ধন্যবাদ পেতেই পারে। প্রকাশকরা জানালেন অনেক আগেই মেলার স্টল বুঝে পেয়েছিলেন তারা। সে জন্য সাজসজ্জা শেষে গুছিয়ে বসতে পেরেছেন।
মেলায় প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব প্রান্তে এবার নতুন একটি প্রবেশ পথ করা হয়েছে। রমনা প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবমিলে সোহরাওয়ার্দীতে ৩টি প্রবেশ পথ ও ৩টি বাহির পথ। প্রত্যেক প্রবেশ পথে সুরক্ষিত ছাউনি থাকবে, যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে মহামারীর কারণে এবার প্রথম দিকে ‘শিশুপ্রহর’ থাকছে না।
এদিকে এখনো মেলার স্টাল গোছানের কাজ শেষ করতে পারেনি প্রকাশকরা। বই ছাপার কাজ শেষ করতে না পারায় সব বই এখনো স্টলে তুলতে পারেননি তারা। স্টল গোছানোর পাশাপাশি বই বিক্রি করতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। আর পাঠকরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন মেলায় নতুন নতুন কি বই এসেছে। সংগ্রহ করছেন বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইয়ের তালিকা। নতুন বই পেলে কেউ কেউ দু’একটা কিনে নিনছেনও।
বই মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম আজকালেরর খবরকে বলেন, নিয়মিত বইমেলায় আসি। এবার করোনার ঝুঁকি রয়েছে। তারমধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মেলায় আসলাম। প্রাণের মেলাতো মিস করা যায় না।
অনলাইন ডেস্ক 






















