ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের কাঁচাবাজারেও আজ থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৫৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
  • ১৯৯ Time View

দেশের কাঁচাবাজারেও আজ শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার। পাশাপাশি পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধেও শুরু হবে অভিযান। পরিবেশের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বেশিরভাগ সুপারশপে এখন পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাগজ ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব ব্যাগেই ক্রেতাদের পণ্য দেয়া হচ্ছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন জাতীয় সব ধরনের ব্যাগ নিষিদ্ধ এবং কোনো ক্রেতাকে এ ব্যাগ দেয়া যাবে না। এছাড়া পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ কার্যক্রমে কাঁচাবাজার ও পলিথিন উৎপাদন কারখানায় অভিযান চালানো হবে। কাঁচাবাজারগুলো যেন আর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নতুন করে নিষেধ করার কিছু নেই। ২০০২ সাল থেকে আইন করে নিষিদ্ধ করা আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ঢাকার সুপারশপগুলোতে প্লাস্টিক ও পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ আর ব্যবহার করা যাবে না। এটি সরকারের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি সুপারশপগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারশপের পাশাপাশি আমরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম শুরু করব। সেটি আজকের মতো আলাপ-আলোচনা নয়, আইন প্রয়োগ করা হবে। দোকান-মালিক সমিতির নেতারাও আমাদের কথা দিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে তারা পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাপড় বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার শুরু করবেন।

তিনি বলেছিলেন, পলিথিন বা পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি কার্যকর করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে এবং ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে আমরা প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। একইসঙ্গে ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন যারা উৎপাদন করে সেখানে আমরা আমাদের অভিযান পরিচালনা শুরু করব। সবাই পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন। আমরাও বিকল্প সরবরাহের জন্য কাজ করছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী লিংকন গায়েন গণমাধ্যমকে বলেন, এটা সত্য যে পলিথিন পরিবেশ, খাল-নদী ও মাটির জন্য বিপজ্জনক। সেজন্য এটি বন্ধ হওয়া দরকার। পাশাপাশি এটিও সত্য যে, বাজারে বিকল্প সামগ্রী না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সরকারের নেওয়া পলিথিন বন্ধের ঘোষণা সুফল পায়নি। এবারেও আমরা মনে করি যে সাধারণ মানুষ এখনও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেনি।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারে পর্যাপ্ত বিকল্প সরবরাহ এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই উদ্যোগটি সফল হতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয়

দেশের কাঁচাবাজারেও আজ থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার

Update Time : ০৬:৫৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪

দেশের কাঁচাবাজারেও আজ শুক্রবার (১ নভেম্বর) থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার। পাশাপাশি পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধেও শুরু হবে অভিযান। পরিবেশের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বেশিরভাগ সুপারশপে এখন পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাগজ ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব ব্যাগেই ক্রেতাদের পণ্য দেয়া হচ্ছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন জাতীয় সব ধরনের ব্যাগ নিষিদ্ধ এবং কোনো ক্রেতাকে এ ব্যাগ দেয়া যাবে না। এছাড়া পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ কার্যক্রমে কাঁচাবাজার ও পলিথিন উৎপাদন কারখানায় অভিযান চালানো হবে। কাঁচাবাজারগুলো যেন আর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নতুন করে নিষেধ করার কিছু নেই। ২০০২ সাল থেকে আইন করে নিষিদ্ধ করা আছে।

তিনি সেদিন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ঢাকার সুপারশপগুলোতে প্লাস্টিক ও পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ আর ব্যবহার করা যাবে না। এটি সরকারের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি সুপারশপগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুপারশপের পাশাপাশি আমরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম শুরু করব। সেটি আজকের মতো আলাপ-আলোচনা নয়, আইন প্রয়োগ করা হবে। দোকান-মালিক সমিতির নেতারাও আমাদের কথা দিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে তারা পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাপড় বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার শুরু করবেন।

তিনি বলেছিলেন, পলিথিন বা পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি কার্যকর করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে এবং ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে আমরা প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। একইসঙ্গে ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন যারা উৎপাদন করে সেখানে আমরা আমাদের অভিযান পরিচালনা শুরু করব। সবাই পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন। আমরাও বিকল্প সরবরাহের জন্য কাজ করছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী লিংকন গায়েন গণমাধ্যমকে বলেন, এটা সত্য যে পলিথিন পরিবেশ, খাল-নদী ও মাটির জন্য বিপজ্জনক। সেজন্য এটি বন্ধ হওয়া দরকার। পাশাপাশি এটিও সত্য যে, বাজারে বিকল্প সামগ্রী না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সরকারের নেওয়া পলিথিন বন্ধের ঘোষণা সুফল পায়নি। এবারেও আমরা মনে করি যে সাধারণ মানুষ এখনও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেনি।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারে পর্যাপ্ত বিকল্প সরবরাহ এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই উদ্যোগটি সফল হতে পারে।