ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মিশর আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে অপ্টা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ তারেক রহমানের মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আজকের নামাজের সময়সূচি: ২২ জুন ২০২৬ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

ইরানের কর্তৃপক্ষ গণগ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইরানের কর্তৃপক্ষ গণগ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড ও সামরিক বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে দেশটির অশান্ত কুর্দিস্তান অঞ্চলে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা ও আন্দোলনকারীরা। তারা রয়টার্সকে জানান, ১৩ জুন ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো রাস্তায় চেকপয়েন্টগুলোকে ঘিরে অবস্থান জোরদার করে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের ২০ শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ও জেনারেলকে হত্যা করা হয়। হামলা হয় পারমাণবিক ও বৈজ্ঞানিক স্থাপনায়। এসব ঘটনায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে তাদের কিছু এজেন্ট সহায়তা করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষে ওইসব এজেন্ট ধরতে তৎপর হয় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। এ অভিযোগে এ পর্যন্ত ৭০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন ইরানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সরকার।

ইরানে হামলার পর ইসরায়েলের অনেকে ও ইরানের নির্বাসিত সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলো আশা করেছিল, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান দেখা দেবে ও বিক্ষুব্ধ জনতা দেশটির ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে সেরকম কিছু হয়নি।

এ নিয়ে রয়টার্স সরকারি নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক ইরানির সঙ্গে কথা বলেছে যারা মনে করেন, এসব নীতিই দেশকে ইসরায়েলি হামলার দিকে নিয়ে গেছে; কিন্তু দেশজুড়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবাদ এ সময় দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত এক ঊর্ধ্বতন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও আরও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার হুমকির দিকে নজর দিয়েছে, বিশেষ করে কুর্দি এলাকাগুলোয়।

ওই কর্মকর্তারা জানান, কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি গোয়েন্দা, জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নির্বাসিত সরকারবিরোধী গোষ্ঠী পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন এর আগে ইরানের বেশ কয়েকটি হামলা পরিচালনা করেছিল। ইসরায়েলি হামলার পর থেকে দেশটির আন্দোলনকারীরা প্রায় নিশ্চুপ হয়ে আছেন।

২০২২ সালের গণআন্দোলনের সময় কারান্তরীণ তেহরানের এক অধিকার আন্দোলনকারী বলেন, ‘শাসক গোষ্ঠী এ পরিস্থিতিকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এমন বাস্তব উদ্বেগ থাকায় আমরা এখন অত্যন্ত সতর্ক হয়ে আছি।’

ইরানের অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী এইচআরএনএ সোমবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক অথবা নিরাপত্তাবিষয়ক অভিযোগে ৭০৫ জনকে গ্রেপ্তারের রেকর্ড করেছে তারা। এইচআরএনএ জানিয়েছে, তাদের অনেককে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরগিরি করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তুরস্ক সীমান্তবর্তী ইরানের উত্তরপশ্চিমের শহর উরমিয়াতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং গুপ্তহত্যায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চোরাচালানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরানি কুর্দিদের অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী হেঙ্গাও জানিয়েছে, যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা সবাই কুর্দি। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিভাবে সাড়া দেয়নি।

Tag :

কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

ইরানের কর্তৃপক্ষ গণগ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে

Update Time : ০২:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইরানের কর্তৃপক্ষ গণগ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড ও সামরিক বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এসব ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে দেশটির অশান্ত কুর্দিস্তান অঞ্চলে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা ও আন্দোলনকারীরা। তারা রয়টার্সকে জানান, ১৩ জুন ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো রাস্তায় চেকপয়েন্টগুলোকে ঘিরে অবস্থান জোরদার করে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের ২০ শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ও জেনারেলকে হত্যা করা হয়। হামলা হয় পারমাণবিক ও বৈজ্ঞানিক স্থাপনায়। এসব ঘটনায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে তাদের কিছু এজেন্ট সহায়তা করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষে ওইসব এজেন্ট ধরতে তৎপর হয় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। এ অভিযোগে এ পর্যন্ত ৭০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন ইরানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সরকার।

ইরানে হামলার পর ইসরায়েলের অনেকে ও ইরানের নির্বাসিত সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলো আশা করেছিল, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান দেখা দেবে ও বিক্ষুব্ধ জনতা দেশটির ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে সেরকম কিছু হয়নি।

এ নিয়ে রয়টার্স সরকারি নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক ইরানির সঙ্গে কথা বলেছে যারা মনে করেন, এসব নীতিই দেশকে ইসরায়েলি হামলার দিকে নিয়ে গেছে; কিন্তু দেশজুড়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবাদ এ সময় দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত এক ঊর্ধ্বতন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও আরও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার হুমকির দিকে নজর দিয়েছে, বিশেষ করে কুর্দি এলাকাগুলোয়।

ওই কর্মকর্তারা জানান, কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি গোয়েন্দা, জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নির্বাসিত সরকারবিরোধী গোষ্ঠী পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন এর আগে ইরানের বেশ কয়েকটি হামলা পরিচালনা করেছিল। ইসরায়েলি হামলার পর থেকে দেশটির আন্দোলনকারীরা প্রায় নিশ্চুপ হয়ে আছেন।

২০২২ সালের গণআন্দোলনের সময় কারান্তরীণ তেহরানের এক অধিকার আন্দোলনকারী বলেন, ‘শাসক গোষ্ঠী এ পরিস্থিতিকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এমন বাস্তব উদ্বেগ থাকায় আমরা এখন অত্যন্ত সতর্ক হয়ে আছি।’

ইরানের অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী এইচআরএনএ সোমবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক অথবা নিরাপত্তাবিষয়ক অভিযোগে ৭০৫ জনকে গ্রেপ্তারের রেকর্ড করেছে তারা। এইচআরএনএ জানিয়েছে, তাদের অনেককে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরগিরি করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তুরস্ক সীমান্তবর্তী ইরানের উত্তরপশ্চিমের শহর উরমিয়াতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং গুপ্তহত্যায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চোরাচালানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরানি কুর্দিদের অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী হেঙ্গাও জানিয়েছে, যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা সবাই কুর্দি। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিভাবে সাড়া দেয়নি।