ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৮ আগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন সিলেট ও বগুড়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭, আহত ৫০ সৌদি আরব উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তা, ১০ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত অন্তত ৬, আহত ১৫ জন শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না: রণধীর জয়সওয়াল

জুলাইয়ে আহতদের ঢাকায় আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার, ব্যয় ১ হাজার ৩৪৪ কোটি

জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ঢাকায় আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। মিরপুর ৯ নম্বরে সরকারি জমিতে নির্মিতব্য ১,৫৬০টি ফ্ল্যাট বিনামূল্যে প্রদান করা হবে আহতদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১,৩৪৪ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের আয়তন ধরা হয়েছে ১,২৫০ বর্গফুট। থাকছে দুটি শয়নকক্ষ, ড্রয়িংরুম, লিভিংরুম, খাবার কক্ষ, রান্নাঘর এবং তিনটি শৌচাগার। গুরুতর আহত বা পঙ্গুদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে, যাতে চলাচল ও ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা থাকবে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির জানান, ‘এখন আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ। চার বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে চাই। কারা ফ্ল্যাট পাবেন, তা ঠিক করবে জুলাই অধিদপ্তর, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি।’

এর আগে জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য মিরপুর ১৪ নম্বরে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬২ কোটি টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে ১,৩৫৫ বর্গফুটের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর ৯ নম্বরের জমিটি নিচু হওয়ায় অতীতে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এবার জমি ভরাটে ব্যয় হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। যদিও প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সমীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রকল্পে তা করা হয়নি।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী, আন্দোলনে ১,৪০১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯৩ জন ‘অতি গুরুতর’ ও ৯০৮ জন ‘গুরুতর আহত’ হিসেবে চিহ্নিত। ১৯ জন সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং ৩৮২ জন একটি চোখ হারিয়েছেন। অনেকে পা হারিয়েছেন বা পঙ্গু হয়ে গেছেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে ৭ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায় আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি জুলাই মাসেই একনেক সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন পাবে। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Tag :

ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ে আহতদের ঢাকায় আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার, ব্যয় ১ হাজার ৩৪৪ কোটি

Update Time : ০৫:০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ঢাকায় আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। মিরপুর ৯ নম্বরে সরকারি জমিতে নির্মিতব্য ১,৫৬০টি ফ্ল্যাট বিনামূল্যে প্রদান করা হবে আহতদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১,৩৪৪ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের আয়তন ধরা হয়েছে ১,২৫০ বর্গফুট। থাকছে দুটি শয়নকক্ষ, ড্রয়িংরুম, লিভিংরুম, খাবার কক্ষ, রান্নাঘর এবং তিনটি শৌচাগার। গুরুতর আহত বা পঙ্গুদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে, যাতে চলাচল ও ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা থাকবে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির জানান, ‘এখন আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ। চার বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে চাই। কারা ফ্ল্যাট পাবেন, তা ঠিক করবে জুলাই অধিদপ্তর, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি।’

এর আগে জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য মিরপুর ১৪ নম্বরে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬২ কোটি টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে ১,৩৫৫ বর্গফুটের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর ৯ নম্বরের জমিটি নিচু হওয়ায় অতীতে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এবার জমি ভরাটে ব্যয় হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। যদিও প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সমীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রকল্পে তা করা হয়নি।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী, আন্দোলনে ১,৪০১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯৩ জন ‘অতি গুরুতর’ ও ৯০৮ জন ‘গুরুতর আহত’ হিসেবে চিহ্নিত। ১৯ জন সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং ৩৮২ জন একটি চোখ হারিয়েছেন। অনেকে পা হারিয়েছেন বা পঙ্গু হয়ে গেছেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে ৭ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায় আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি জুলাই মাসেই একনেক সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন পাবে। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।