মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধি ঃ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশনে উদযাপন করা হয়েছে কুমারী পূজা। কুমারী পূজা দেখতে আসা নানা বয়সী ভক্তবৃন্দের ঢল নামে। দেবী দুর্গার আসনে বসানো হয় দেবী রূপে কুমারী এক মেয়েকে। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন। সেখানে নেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি নিরাপত্তা।

হিন্দু শাস্ত্রমতে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কোন কুমারী কিশোরী পুজিত হয়। এ বছর শহরের সানরাইজ স্কুলের অস্মী মজুমদার (১০) নামে তৃতীয় শ্রেনীর এক ছাত্রী পূজিত হন। শাস্ত্রমতে এই বয়সে কুমারী পূজিতা হলে শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভ শক্তির বিন্যাস ঘটে। এতে সমাজে অশান্তি দূর হয়ে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টার দিকে শেষ হয়। ফরিদপুর শহরের রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ মন্দিরে ঐতিহ্যেরধারক হিসেবে শুরু হয় কুমারী পূজা। পূজা পরিচালনা করেন শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কোষাধ্যক্ষ স্বামী সুমধুরাননদ মহারাজ। বিভিন্ন মÐপে উপোস থেকে ভক্তরা দুর্গা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছেন।
এ সময় হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্তদের সামনে উপস্থিত হয়ে সমাজের শুভ শক্তির ঐক্যে অসুর বিনাশের আহŸান জানান ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ। সেখানে জেলা বিএনপির আহŸায়ক অ্যাড. মোদারেরস আলী ইছা ও রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সুবরানন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমবারের মতো কুমারী পূজা দেখতে সাতক্ষীরা থেকে বাবার বাড়ি ফরিদপুরে এসেছেন সুবর্ণা মজুমদার। কুমারী পূজা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। সুবর্ণা মজুমদার বলেন, আমরা শান্তিময় জীবনযাপনের জন্য মা দূর্গাকে কুমারী পূজা করে থাকি। মা আমাদের সকলকে এবং দেশকে শান্তি ও মঙ্গলময় করুক, আমি সেই কামনা করেছি।
পাঁচবার কুমারী পূজা দেখার ভাগ্য হয়েছে ৭৯ বছর বয়সি বৃদ্ধা সম্পা রানীর। বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়লেও লাঠি ভর করে এ বছর এসেছেন রামকৃষ্ণ মিশনে। তিনিও সকলের জন্য মঙ্গল কামনা করেছেন।
ঋষী নামে এক শিক্ষার্থী জানান, কুমারী পূজায় এক নারী শক্তি রয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা দেবী শক্তি খুঁজে পাই। শাস্ত্রমতে সেখানে নারী পূজা হয় সেখানে দেবী শক্তি বাস করে। এজন্য আমরা কুমারী পূজায় অঞ্জলী দিতে এসেছি।
জানা গেছে, কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। নারীর যথাযথ মর্যাদা অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতীমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা। “কুমারী সমগ্র জগতের বাক্য ও বিদ্যাস্বরূপ। তিনি এক হাতে অভয় ও অন্য হাতে বর প্রদান করেন। এ বছর জেলায় ৭৫৮টি পূজামন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 



















