ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে সেখানে এই যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত হল।
আল-জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ইউএসএস গ্রেভলি যুদ্ধজাহাজ রোববার মেরিন সেনাসদস্যদের নিয়ে ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অব স্পেন-এ পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাহাজটি সেখানেই অবস্থান করবে। এই সময়ের মধ্যে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি দল ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার।
যুদ্ধজাহাজটিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা এবং হেলিকপ্টার পরিচালনা সুবিধা রয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে জোরদার সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে ক্রমেই বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা। মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালায়, যার বেশিরভাগই ঘটে ক্যারিবীয় সাগরে।
এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থানকে আঞ্চলিক রাজনীতির বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—তিনি নিজেই আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা আরও বেড়ে যায় গত শুক্রবার, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় অভিযান পরিচালনার অনুমতিও দিয়েছে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা নিজেদের উপকূলে প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 



















