সামনে মরিচের সিজন আসন্ন । এরইমধ্যে কৃষক ভাইয়েরা মরিচের চারা রোপনের জন্য বীজ সংগ্রহসহ, সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহন করছেন । কিন্ত, মরিচের ভাল ফলনের জন্য পরিপুর্ন দমনব্যবস্থা গ্রহন না করলে, কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন । তারমধ্যে জাবপোকার আক্রমন অন্যতম ।
জাব পোকা মরিচের মারাত্নক ক্ষতি করে । এই পোকাগুলো মরিচের পাতা, ফুল, কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায় । এতে গাছসহ, ফলনের মারাত্নক ক্ষতি হয়, ফলে মরিচের ফলন নিয়ে হতাশ হন চাষিরা । তাই মরিচের ভালো ফলন পেতে হলে, জাব পোকাসহ বিভিন্ন পোকার দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে ।
পরিচিতিঃ জাব পোকা কি❓
জাব পোকা অতি ছোট, দেহ নরম ও উজ্জ্বল কাল রংয়ের হয়ে থাকে । পাখাওয়ালা জাব পোকা উড়তে পারে কিন্তু নিম্ফ বা পাখা বিহীন উড়তে পারে না । এরা দল বদ্ধ ভাবে বাস করে ।
কারণঃ র্পূনাঙ্গ ও নিম্ফ (বাচ্চা) পাতা, ফুল, কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায় । অধিক আক্রমণে গাছের বাড়তি কমে যায় এবং ফলন কম হয় । এ পোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায় ।
ক্ষতির লক্ষণঃ
১. পূর্নাঙ্গ ও নিম্ফ পাতা, ফুল কচি ফল ও ডগার রস চুষে খায় ।
২. পাতা কুঁকড়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি ও ফুল, ফল ধারণ বাধাগ্রস্থ হয় ।
৩. এ পোকা থেকে নি:সৃত মধুরসে কালো শুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায় ।
এই পোকা থেকে গাছ এবং ফলনকে রক্ষা করতে হলে, দমন ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে, ব্যবস্থা নিতে হবে । আসুন, তাহলে জেনে নেই, কিভাবে এই পোকা দমনে নিতে হবে ।
পোকা দমন ব্যবস্থাপনাঃ
* প্রাথমিক অবস্থায় শুকনো ছাই প্রয়োগ করা ।
* আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলতে হবে ।
* পরিষ্কার পানি জোরে স্প্রে করা ও ক্ষেত পরিষ্কার /পরিচ্ছন্ন রাখা ।
* লেডি বার্ড বিটলের পূর্নাঙ্গ ও কীড়া (গ্লাব) এবং সিরফিড ফ্লাই এর কীড়া জাব পোকা খায় বিধায় এদের সংরক্ষণ ও সংখ্যা বাড়ানো গেলে জাবপোকা অতি দ্রুত খেয়ে ফেলে ।
* হলুদ রঙের ফাঁদ ব্যবহার করা ।
* তামাকের গুড়া (১০গ্রাম) ও সাবানের গুড়া (৫গ্রাম) প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা ।
* আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রোফেনফোস কিউ + সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক সবিক্রন ৪২৫ ইসি , নাইট্রো , ইমিটাফ অনুমোদিত হারে প্রয়োগ করতে হবে ।
তবে, এই রাসায়নিকভাবে দমন ব্যবস্থা গ্রহন করলে, কিছু সাবধানতা গ্রহন করতে হবে ।
সাবধানতাঃ
স্প্রে করার পর, ১০/১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না ।
ফয়সাল হাসান 









