ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩৭ Time View

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে নাসের ঠাকুর (৩০) নামে এক স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশি পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নাসের ঠাকুর মধুখালী উপজেলার গদাধরদী গ্রামের মো. কোহেল ঠাকুরের ছেলে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন নাসের ঠাকুর। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে একপর্যায়ে তা চরম পরিণতির দিকে গড়ায়।

ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ২১ মার্চ, আসামি তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য মারধর করে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে হত্যার প্রমাণ পায়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী জানান, আসামি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এই রায় যৌতুক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দেবে।

জানা গেছে, রায়ের পর প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ও যৌতুকজনিত সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

Tag :

বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে ১১ দল আজ রাজপথে নেমেছে: ডা. শফিকুর রহমান

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে নাসের ঠাকুর (৩০) নামে এক স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশি পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নাসের ঠাকুর মধুখালী উপজেলার গদাধরদী গ্রামের মো. কোহেল ঠাকুরের ছেলে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন নাসের ঠাকুর। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে একপর্যায়ে তা চরম পরিণতির দিকে গড়ায়।

ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ২১ মার্চ, আসামি তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য মারধর করে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে হত্যার প্রমাণ পায়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী জানান, আসামি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এই রায় যৌতুক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দেবে।

জানা গেছে, রায়ের পর প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ও যৌতুকজনিত সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।