ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে অংশ নিচ্ছে ৫০টি। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। প্রার্থীদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৮৩ জন। দলীয় প্রার্থী ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ভোটের জন্য প্রস্তুত সারা দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন।
তবে শেরপুর-৩ আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারবেন না। ওই আসনে নারী ভোটার দুই লাখ আট হাজার ৩০৪, পুরুষ দুই লাখ পাঁচ হাজার ৬৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের সাতজন। ফলে বৃহস্পতিবার ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৩৯২ জন বিদেশি। দেশি পর্যবেক্ষক থাকতে পারেন ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন। প্রায় ৯ হাজার ৭০০ সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, এর মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন প্রায় ১৫৬ জন।
এ নির্বাচনে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে দায়িত্বে থাকবেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার, উপকূলীয় পাঁচ জেলার ১৭ আসনে নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, ১০ জেলার ১৭ আসনে কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির এক হাজার ৯২২ সদস্য রয়েছেন।
পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় দুই হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এবার প্রথমবারের মতো ভোটে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপক হারে সিসিটিভি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাজধানীর আসনগুলোর দিকে নজর সবার। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের স. ম. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির শফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বস্তি এবং মেস এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনি পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। তবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ও সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে ইসি সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে সারা দেশ থেকে ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা হলে সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আবার শুরু করা হবে। যদি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তবে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে।












মন্তব্য ০
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।