Top_Header
দ্য পদ্মা২৪.কম
জাতীয়

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম, কমেছে ডিমের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম, কমেছে ডিমের দাম

নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়েছে পূজার টানা ছুটির। স্বাভাবিক অন্যান্য সময়ের চেয়ে গত কয়েকদিন বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি বেশ কম। তবে, এতে বাজারে পণ্যের দামে খুব বেশি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি। অন্য সময়ের মতো দাম ওঠানামা করছে দু-চারটি পণ্যের। এর মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম। তবে, স্বস্তির খবর মিলেছে ডিমের বাজারে; এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি কমেছে ১৫ থেকে ২৫ টাকা।

​শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ও এর আগে কয়েকদিন রাজধানীর রামপুরা শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচায়সহ কয়েকটি বাজার ঘুরে বাজারদরের এমন চিত্র দেখা গেছে।

​মুরগির বাজারে চড়া উত্তাপ

বৃহস্পতিবার থেকে ​বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহে একটু দাম-দর করলেই ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে কেনা যাচ্ছিল। এ মুরগি এখন সর্বনিম্ন ১৮০ টাকা থেকে শুরু করে বেশিরভাগ দোকানে প্রতিকেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা।

​মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, হটাৎ কয়েক দিন ধরে খামার পর্যায়েই মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। ছুটির কারণে এমন হতে পারে।

সেই সঙ্গে পরিবহন খরচ ও পোল্ট্রি ফিডের দাম চড়া থাকায় আড়তদারদের বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

​স্বস্তি দিচ্ছে ডিমের দাম

​মুরগির বাজারে আগুন থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে ডিমের দোকানে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ডিমের দাম নিম্নমুখী। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। যদিও, পাড়া মহল্লার দোকানে এখনো প্রতি হালি ডিমের দাম ১৫০ টাকা রাখা হচ্ছে, যা আগে ১৫৫ ছিল।

​ডিম ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহ বলেন, সরকারি নানা নজরদারি এবং বাজার তদারকির কারণে পাইকারি পর্যায়ে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ছুটির মধ্যে ডিমের চাহিদা কম, আড়তে ডিম জমিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে, ডিমের দাম আগের চেয়ে কমে এসেছে এবং আগামী কয়েক দিন দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।

বাজারে নতুন সবজির সমারোহ

তাপমাত্রা খানিকটা কমার মধ্য দিয়ে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাওয়া গেলেও ঢাকায় এখনো গরমের রেশ বিদ্যমান। তবে, ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। শীত না এলেও এই মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাজারে বাড়ছে।

নতুন হিসেবে বরাবরের মতোই এসব সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে, পুরনো সবজিগুলোর দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।

নতুন সবজি হিসেবে এখন বাজারের প্রায় সব সবজির দোকানে ফুলকপি, বাধাকপি মুলা ও শিম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে নতুন আসা শিমের। নতুন শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে অন্তত ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা কম। এছাড়া মুলাও বিক্রি করতে দেখা গেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই ফুলকপি, বাধাকপি ও শিম বাজারে এসেছে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দামও কমছে।

অন্যদিকে, পূজার ছুটির কারণে ক্রেতা কমায় অন্যান্য সবজির দাম কমেছে। লম্বা বেগুণ প্রতি কেজি সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ৯০ থেকে ১০ টাকা। এখন তা বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। প্রতি কেজি পটল ও ঢ্যাঁড়সের দাম নেমেছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এছাড়া, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে।

​অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম উচ্চমূল্যে আটকে আছে। গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দামে খুব বেশি হেরফের লক্ষ্য করা যায়নি।

মন্তব্য ০

?
মন্তব্য প্রকাশের পর আপনি সেটি সম্পাদনা বা মুছে ফেলতে পারবেন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম, কমেছে ডিমের দাম
0:00 0:00
1.0x