Top_Header
দ্য পদ্মা২৪.কম
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ উক্তির জেরে ৭ দিনের রিমান্ডে সেই যুবক

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ উক্তির জেরে ৭ দিনের রিমান্ডে সেই যুবক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বা হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’-সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত মো. আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ইয়াছিন পাইক আদালতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই মন্তব্যের নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত রক্ষা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার স্বার্থেই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর ডিবি পুলিশের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ বিভাগের উত্তর শাখার একটি দল সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণের সময় ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেখতে পায়। সেখানে ‘মাইশা আঞ্জুম’ নামের এক আইডি থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসে প্রধানমন্ত্রীর বসে থাকার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পোস্টের মন্তব্যে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের আইডি থেকে লেখেন, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

উসকানিমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ এই মন্তব্য নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুহূর্তেই অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। ঐ দিনই বিকেল পাঁচটার দিকে রাজশাহীর নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর বাবাকে আটক করে। অভিযানের সময় আসামির ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়, যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিডি পুলিশ জানায়।

এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন আসামি আবু বকরকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বাকস্বাধীনতা ও প্রচারণার আড়ালে সহিংসতা কিংবা শীর্ষ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বার্তা ছড়ানোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে, এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া তারই একটি প্রতিফলন।

মন্তব্য ০

?
মন্তব্য প্রকাশের পর আপনি সেটি সম্পাদনা বা মুছে ফেলতে পারবেন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ উক্তির জেরে ৭ দিনের রিমান্ডে সেই যুবক
0:00 0:00
1.0x