ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৬ শিশুর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময় বাইডেনের শরীরে কেবল ছড়িয়েই পড়েনি বরং বিভিন্ন অংশে মেটাস্টেসিস ঘটিয়েছে, ‘চরম যন্ত্রণায়’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার ৬ শর্ত দিলো ইরান কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৯ আগস্ট ২০২৬ সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে

আগামী বছর থেকে আবারও নতুন আরেকটি শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার

আগামী বছর থেকে আবারও নতুন আরেকটি শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এ শিক্ষাক্রমে অভিজ্ঞতালব্ধ, জ্ঞাননির্ভর ও বাস্তবসম্মত পাঠদান করানো হবে। তবে কী পদ্ধতিতে পাঠদান বা মূল্যায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথমে এটি চালু হবে। পরে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৫ জুন এ নিয়ে এনসিটিবিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) চলছে এবং আগামী জুলাই মাসে এ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মতে, কারিকুলাম বাস্তবায়নের সব কার্যক্রম আগামী বছর একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই সম্পন্ন হবে। কারণ, এটি সরকারের দিকনির্দেশনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে একটি নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মুখস্থ-নির্ভরতা কমিয়ে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেওয়া। তবে অভিভাবকরা সেই কারিকুলাম স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করতে পারেননি এবং অভিযোগ ছিল যে এটি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সেই কারিকুলাম বাতিল করে ২০১২ সালের আগের শিক্ষাক্রম পুনর্বহাল করা হয়।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন কারিকুলামে অভিজ্ঞতালব্ধ, জ্ঞাননির্ভর ও বাস্তবসম্মত পাঠদানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। যদিও পাঠদান বা মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২৩ সালের বিতর্কিত কারিকুলামের কিছু সময়োপযোগী দিক এবং ২০১২ সালের কারিকুলামের কার্যকর বিষয়গুলো নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই কারিকুলাম প্রণয়নের কাজটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্ভব হবে না। কারণ এটি তাদের মূল ম্যান্ডেটের অংশ নয়। একটি শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা ব্যাপক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জনগণের বৃহত্তর অংশের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর জন্য একটি স্থিতিশীল ও নির্বাচিত সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন এবং দিকনির্দেশনা অপরিহার্য, যা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্পস্থায়ী প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামতকে একীভূত করে একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্ব, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Tag :

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৬ শিশুর

আগামী বছর থেকে আবারও নতুন আরেকটি শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার

Update Time : ০৫:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

আগামী বছর থেকে আবারও নতুন আরেকটি শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এ শিক্ষাক্রমে অভিজ্ঞতালব্ধ, জ্ঞাননির্ভর ও বাস্তবসম্মত পাঠদান করানো হবে। তবে কী পদ্ধতিতে পাঠদান বা মূল্যায়ন করা হবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথমে এটি চালু হবে। পরে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত ২৫ জুন এ নিয়ে এনসিটিবিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) চলছে এবং আগামী জুলাই মাসে এ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মতে, কারিকুলাম বাস্তবায়নের সব কার্যক্রম আগামী বছর একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই সম্পন্ন হবে। কারণ, এটি সরকারের দিকনির্দেশনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে একটি নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মুখস্থ-নির্ভরতা কমিয়ে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেওয়া। তবে অভিভাবকরা সেই কারিকুলাম স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করতে পারেননি এবং অভিযোগ ছিল যে এটি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সেই কারিকুলাম বাতিল করে ২০১২ সালের আগের শিক্ষাক্রম পুনর্বহাল করা হয়।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন কারিকুলামে অভিজ্ঞতালব্ধ, জ্ঞাননির্ভর ও বাস্তবসম্মত পাঠদানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। যদিও পাঠদান বা মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২৩ সালের বিতর্কিত কারিকুলামের কিছু সময়োপযোগী দিক এবং ২০১২ সালের কারিকুলামের কার্যকর বিষয়গুলো নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই কারিকুলাম প্রণয়নের কাজটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্ভব হবে না। কারণ এটি তাদের মূল ম্যান্ডেটের অংশ নয়। একটি শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা ব্যাপক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জনগণের বৃহত্তর অংশের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর জন্য একটি স্থিতিশীল ও নির্বাচিত সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন এবং দিকনির্দেশনা অপরিহার্য, যা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্পস্থায়ী প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামতকে একীভূত করে একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্ব, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।