নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের ৮৬ কেজি চাল সহায়তা দেয় সরকার। জেলেরা বলছেন, এই চাল নিয়ে একটা জেলে পরিবার ৬৫ দিন চলতে পারে না। আবার মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকে। অনেকে বরাদ্দের পুরো চালও পান না। এ ছাড়া অনেকে দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকলেও জেলে হিসেবে নিবন্ধন না হওয়ায় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বরাদ্দের চাল সঠিকভাবে বণ্টন এবং এর সঙ্গে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান জেলেরা।
একই এলাকার জেলে মো. মনিরুল ইসলাম মাঝি বলেন, বরাদ্দের চাল জেলেরা ঠিকমতো পান না। তাই অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা আমান্য করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যান।
এদিকে বরগুনার মত্স্যজীবী নেতারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতের জেমলরা দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করেন। এটি ঠেকাতে না পারলে নিষেধাজ্ঞায়ও সুফল আসবে না।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে। তাই ওই অঞ্চলে নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেলে মো. মালেক বলেন, ‘আমরা সরকারের ঘোষণা শুনেই কূলে (তীরে) চইল্লা আইছি। এই ৬৫ দিন আমরা কোনো মাছ ধরমু না।’
কুয়াকাটা সৈকতের জেলে মো. সোহাগ বলেন, ‘আমরা হয়তো আর এই পেশায় টিকে থাকতে পারব না। তিন বছর ধরে সমুদ্রে মাছের আকাল এবং ঘন ঘন দুর্যোগ আর আট মাস ধরে জাটকা ইলিশ শিকার বন্ধের অভিযান চলছে। আবার শুরু হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞায় বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের মৎস্য পল্লীতে দেখা দিয়েছে হতাশা। ইলিশের মৌসুম শুরু হতে না হতেই এই নিষেধাজ্ঞায় হতাশায় পড়েছেন জেলে-মহাজনরা।
শরণখোলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘বৈশাখ মাস থেকেই শুরু হয় ইলিশের মৌসুম। প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে জাল-টঞ্চলার মেরামতে প্রত্যেক মহাজনের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা খরচ হয়। এখন চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। ঠিক এই সময় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য কাল হয়ে দেখা দেবে।’
অনলাইন ডেস্ক 















