ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান: চার দিন ধরে নিখোঁজ, অসহায় পরিবার নির্বাক

“কোথায় মামলা করবো, কার কাছে অভিযোগ করবো? মামলা করবো কী, কেউ তো জিডিই নিতে রাজী হচ্ছে না।”আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার ।

গত চার দিন ধরে নিখোঁজ আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় এই বক্তার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হয়েছেন তিনি। এ সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরও তিনজন সহকর্মী ছিলেন।

আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে শুক্রবার বিকেলেই পুলিশের শরণাপন্ন হলে রাজধানীর গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সাবেকুন নাহার। তবে রোববার সকালে রংপুর সদর থানায় এ নিয়ে একটি জিডি করেছেন নিখোঁজ আদনানের মা।

তরুণ ইসলামিক বক্তা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান তার দু’জন সফরসঙ্গী এবং গাড়ি ও ড্রাইভারসহ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে গত দুইদিন ধরে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা হলেও আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে শুক্রবার বিকেলেই পুলিশের শরণাপন্ন হলে রাজধানীর গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সাবেকুন নাহার।

‘আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান তিনি কোন ও মতাদর্শ বা কোন সংগঠনের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করে না। তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কোরআন-হাদিস দ্বারা শেষ জামানার মুসলিম উম্মাহকে কিভাবে হেফাজত করা যায় বা হেফাজতে রাখা যায় সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। তিনদিন ধরে সে নিখোঁজ, তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

৩১ বছর বয়সী আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনেকেই তাকে অনুসরণ করেন। এই মূহুর্তে মি. আদনানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবং তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পুলিশ কী বলছে?

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে  দারুসসালাম এবং মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা। তিনি কারণ হিসেবে বলছেন, “উনি (মি. আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। উনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হইছে, সেটা তো আমরা জানি না।

সেক্ষেত্রে যেখান থেকে উনি রওয়া হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা উনার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে।”

এখন পুলিশ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে মি. আদনানকে বা তার গাড়ীকে দেখা যায়নি। বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের আলাদা কোন বিভাগ নেই।

আবু ত্ব-হা আদনান অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবা দিতে যেতেন। আদনান শুক্রবার ঢাকার একটি মসজিদে খুতবা দেওয়ার উদ্দেশে রংপুর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন। আদনানের সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আবদুল মুহিত ও ফিরোজ। এ ছাড়া গাড়িচালক হিসেবে ছিলেন আমির উদ্দিন ফয়েজ।

অদনানের মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতি বা কোনো ধর্মীয় সংগঠনও করে না। তার খোঁজ না পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। আমার সন্তানকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ চাই।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা, ইনকিলাব

Tag :

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান: চার দিন ধরে নিখোঁজ, অসহায় পরিবার নির্বাক

Update Time : ০৬:৩৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

“কোথায় মামলা করবো, কার কাছে অভিযোগ করবো? মামলা করবো কী, কেউ তো জিডিই নিতে রাজী হচ্ছে না।”আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার ।

গত চার দিন ধরে নিখোঁজ আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় এই বক্তার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হয়েছেন তিনি। এ সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরও তিনজন সহকর্মী ছিলেন।

আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে শুক্রবার বিকেলেই পুলিশের শরণাপন্ন হলে রাজধানীর গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সাবেকুন নাহার। তবে রোববার সকালে রংপুর সদর থানায় এ নিয়ে একটি জিডি করেছেন নিখোঁজ আদনানের মা।

তরুণ ইসলামিক বক্তা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান তার দু’জন সফরসঙ্গী এবং গাড়ি ও ড্রাইভারসহ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে গত দুইদিন ধরে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা হলেও আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে শুক্রবার বিকেলেই পুলিশের শরণাপন্ন হলে রাজধানীর গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সাবেকুন নাহার।

‘আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান তিনি কোন ও মতাদর্শ বা কোন সংগঠনের এজেন্ডা হিসেবে কাজ করে না। তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কোরআন-হাদিস দ্বারা শেষ জামানার মুসলিম উম্মাহকে কিভাবে হেফাজত করা যায় বা হেফাজতে রাখা যায় সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। তিনদিন ধরে সে নিখোঁজ, তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

৩১ বছর বয়সী আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনেকেই তাকে অনুসরণ করেন। এই মূহুর্তে মি. আদনানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবং তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পুলিশ কী বলছে?

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে  দারুসসালাম এবং মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা। তিনি কারণ হিসেবে বলছেন, “উনি (মি. আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। উনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হইছে, সেটা তো আমরা জানি না।

সেক্ষেত্রে যেখান থেকে উনি রওয়া হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা উনার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে।”

এখন পুলিশ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে মি. আদনানকে বা তার গাড়ীকে দেখা যায়নি। বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের আলাদা কোন বিভাগ নেই।

আবু ত্ব-হা আদনান অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবা দিতে যেতেন। আদনান শুক্রবার ঢাকার একটি মসজিদে খুতবা দেওয়ার উদ্দেশে রংপুর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন। আদনানের সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আবদুল মুহিত ও ফিরোজ। এ ছাড়া গাড়িচালক হিসেবে ছিলেন আমির উদ্দিন ফয়েজ।

অদনানের মা আজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতি বা কোনো ধর্মীয় সংগঠনও করে না। তার খোঁজ না পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। আমার সন্তানকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ চাই।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা, ইনকিলাব