ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এইচএসসি শিক্ষার্থীরা পাবেন ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা, আবেদন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম হ্রাস ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার লক্ষ্যে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা নির্বাচনে পরাজয় বরণের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান করলেন মমত, সংবিধান দেখিয়ে দেন শুভেন্দু বহুল আলোচিত ‘অ্যাভাটার’ ফিচারটি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বিলাসবহুল একটি প্রমোদতরীতে প্রাণঘাতী হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, ৩ জনের মৃত্যু আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মে ২০২৬ ঈদুল আজহার আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ইসলামি বিধান কী?

আরও দুই দিনের অবরোধ ডেকেছে বিএনপি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১৯৬ Time View
সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং দলের গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে একাদশ দফায় আরও দুই দিনের অবরোধ ডেকেছে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) ও বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) এ অবরোধ পালন করবে দলটি।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ পালিত হবে। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সমমনা দল ও জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে। একইসঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সাভার থেকে ফিরে একইদিন শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করা হবে।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা করা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আজকে সরকার ভেবেছিল হামলা মামলা ও গ্রেপ্তারে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু না জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুক চিতিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। তারা সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সারাদেশে মানবাধিকার দিবসে মানববন্ধনে জড়ো হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ রবিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে পুলিশ হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অনেককে আহত করেছে। শুধু কি তাই সারাদেশে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। যাতে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যায়। আজকে সরকার শুধু আওয়ামীময় দ্বিতীয় বাকশাল কায়েম করতে চান।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন নিজেদের মতো করার জন্য সরকার দেশব্যাপী কবরের শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। সে জন্য তারা কবরস্থানের মতো নিস্তব্ধতা জারি রাখতে চায়। ৭ জানুয়ারি লোক দেখানো প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। তবে এবার প্রহসন ও জালিয়াতি করা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না সরকার। আজকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব ও দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। অন্যদিকে সরকার জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বলে যে, বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে নাকি অযাচিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে!
তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষকে ভোট থেকে দূরে রেখে জালিয়াতির নির্বাচন করছে সরকার। এত বড় অনাচার পৃথিবীর কোথাও কেউ করেছে বলে জানা নেই। সমস্ত নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় সরকার। মাঝে মাঝে তারা উন্নয়নের মায়াজাল তৈরি করে। জনসমর্থন তারা জাদুঘরে পাঠিয়ে জনপ্রশাসন, পুলিশ ও সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ফলে পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক।
রিজভী বলেন, আজকে দেশে পেঁয়াজের কেজি কত? প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি জানেন? আসলে দেশের মানুষ বাঁচল না মরল, সেদিকে তাদের নজর নেই। তাদের নজর অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রাখা।
Tag :
জনপ্রিয়

সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

আরও দুই দিনের অবরোধ ডেকেছে বিএনপি

Update Time : ১০:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং দলের গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে একাদশ দফায় আরও দুই দিনের অবরোধ ডেকেছে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) ও বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) এ অবরোধ পালন করবে দলটি।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ পালিত হবে। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সমমনা দল ও জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে।
এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে। একইসঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সাভার থেকে ফিরে একইদিন শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করা হবে।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা করা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আজকে সরকার ভেবেছিল হামলা মামলা ও গ্রেপ্তারে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু না জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুক চিতিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। তারা সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সারাদেশে মানবাধিকার দিবসে মানববন্ধনে জড়ো হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ রবিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে পুলিশ হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অনেককে আহত করেছে। শুধু কি তাই সারাদেশে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। যাতে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যায়। আজকে সরকার শুধু আওয়ামীময় দ্বিতীয় বাকশাল কায়েম করতে চান।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন নিজেদের মতো করার জন্য সরকার দেশব্যাপী কবরের শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। সে জন্য তারা কবরস্থানের মতো নিস্তব্ধতা জারি রাখতে চায়। ৭ জানুয়ারি লোক দেখানো প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। তবে এবার প্রহসন ও জালিয়াতি করা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না সরকার। আজকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব ও দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। অন্যদিকে সরকার জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বলে যে, বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে নাকি অযাচিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে!
তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষকে ভোট থেকে দূরে রেখে জালিয়াতির নির্বাচন করছে সরকার। এত বড় অনাচার পৃথিবীর কোথাও কেউ করেছে বলে জানা নেই। সমস্ত নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় সরকার। মাঝে মাঝে তারা উন্নয়নের মায়াজাল তৈরি করে। জনসমর্থন তারা জাদুঘরে পাঠিয়ে জনপ্রশাসন, পুলিশ ও সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ফলে পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক।
রিজভী বলেন, আজকে দেশে পেঁয়াজের কেজি কত? প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি জানেন? আসলে দেশের মানুষ বাঁচল না মরল, সেদিকে তাদের নজর নেই। তাদের নজর অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রাখা।