ঈদুল আজহার আগে নখ ও চুল কাটা নিয়ে ইসলামি বিধান হলো, যারা কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তারা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত নখ, চুল বা শরীরের কোনো পশম না কাটা মুস্তাহাব বা উত্তম।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর (১ তারিখ) থেকে শুরু করে ঈদের দিন কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত এই নিয়ম প্রযোজ্য। যারা নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি দেবেন, শুধুমাত্র তাদের জন্য এই বিধান। পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।
রাসূল (সা.) বলেছেন, “জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর তোমাদের কেউ যদি কোরবানি করতে চায়, তবে সে যেন তার চুল,নখ ও লোম কাটা থেকে বিরত থাকে” (সহীহ মুসলিম।)।
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, এই সময় চুল-নখ না কাটা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত), তবে অপরিহার্য নয়। কোরবানি করার পরপরই নখ, চুল কাটা সম্পূর্ণ বৈধ এবং স্বাভাবিক।
জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে, বাংলাদেশে জিলহজ মাসের চাঁদ ১৮ মে ২০২৬ (সোমবার) সন্ধ্যায় খোঁজা হবে। ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। অর্থাৎ ১০ জিলহজ, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।
বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ১৮ মে ২০২৬ তারিখে চাঁদ দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জিলহজ মাসের শুরুর তারিখ ঘোষণা করবে। সাধারণত সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে বা তার একদিন পরে বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়।
“ঈদের ১০ দিন আগে নখ কাটা যাবে না” – কথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে ১০ বা তার কম দিন (কোরবানি পর্যন্ত) না কাটার নির্দেশ রয়েছে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি একটি ইবাদত। যারা কোরবানি দিচ্ছেন, তারা যেন হাজি সাহেবানদের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য রেখে এই ১০ দিন পবিত্র অবস্থায় থাকেন, তাই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যদি কেউ ভুলে বা অজ্ঞতাবশত চুল-নখ কেটে ফেলেন, তবে তার কোরবানি হয়ে যাবে, কিন্তু মুস্তাহাব আমলটি ছুটে যাবে।
অনলাইন ডেস্ক 










