ঈদুল আজহার আগেরদিন মঙ্গলবার কমেছে গরুর দাম। আগের দুদিন কোরবানির গরুর দাম বেশি ছিল বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দাম কমতে শুরু করে। আর এতে খুশিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্রেতাদের মনে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের গরুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, কিছুটা কমেছে গরু ও খাসির দাম। হাটে ছোট আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১ লাখে। আর একটু বড় আকারের গরুর দাম পড়ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখের মধ্যে।
হাট ইজারা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সোমবার সারা রাত থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। সকালেও বৃষ্টির কারণে প্রত্যাশিত ক্রেতা আসেনি। এ পরিস্থিতিতে হাটে আনা বেশির ভাগ গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে।
বেশ কয়েকজন কেত্র জানান, বাজার ভালো। হাটে প্রচুর গরু আসছে। এ কারণে দামও কম রাখছে বিক্রেতারা। চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস জানায়, ঈদের আগের দিন বন্দরনগরীর হাটগুলোতে গরুর সংখ্যা বেশি। সকাল থেকেই ক্রেতা কম বলে দামও পড়তির দিকে। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও উৎকণ্ঠা বাড়ছে বেপারীদের।
সময় যত কমে আসছে খরচ তোলা নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় দরদাম করে যাচ্ছেন তাদের কেউ কেউ। সামান্য লাভে কিংবা গায়ে গায়ে থাকলেও অনেকে গরু ছেড়ে দিচ্ছেন বলে জানালেন এই প্রতিবেদককে।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির উপযোগী পশুর পাশাপাশি প্রতিবছর অন্যান্য জেলা থেকেও ঈদের আগে হাটে বিক্রির জন্য প্রচুর পশু আসে চট্টগ্রামে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে দিন শেষে বেশ কিছু গরু অবিক্রিত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা বেপারীদের।
তবে হাট বসরা আগেই স্থায়ী ও অস্থায়ী খামারিদের মধ্যে যারা অনলাইনে গরু বিক্রি করেছেন তাদের অবস্থা ভালো।
চট্টগ্রাম জেলায় এবার ১ লাখ ২০ হাজার গরু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে, যা মোট চাহিদার ১৫ শতাংশের মত। এর প্রভাব পড়েছে হাটগুলোতে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলমান মহামারীতে হাট বসা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভিড় এড়াতে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনায় ক্রেতারা আগ্রহী ছিলেন অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি।
পাশাপাশি মহামারীর ধাক্কায় ক্রেতার পকেটে টান পড়ায় এবার বন্দরনগরীতে কোরবানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হতে পারে বলে ধারণা করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।
নগরীতে এবার তিনটি স্থায়ী হাট- সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তাপাড়ের হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী ভিত্তিতে নূর নগর হাউজিং কর্ণফুলী, সল্টগোলা রেলক্রসিং এবং পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠে হাট বসেছে।
অনলাইন ডেস্ক 

















