ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বাসমতি চাল রপ্তানিতে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার

আতপ চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একদিন পর এবার বাসমতি চাল রপ্তানিতে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। রোববার দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, বাসমতি ছাড়া অন্যান্য চালের রপ্তানি আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাসমতির মোড়কে অন্যান্য চাল রপ্তানি করা হচ্ছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে আসার পর নতুন এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এক টন বাসমতি চাল ১২০০ মার্কিন ডলারের কমে বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এর বেশিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ চাপানো হয়নি।

ভারত থেকে যে যে পণ্য রপ্তানি করা হয়, সেগুলোর মধ্যে সবথেকে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের তালিকার শীর্ষেই থাকে বাসমতি চাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে ৪.৭৯ বিলিয়ন ডলার অর্থের বাসমতি চাল বিদেশে পাঠানো হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকায় রপ্তানি করেছিল ভারত।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় জানানো হয়, সুগন্ধী বাসমতি চালের রপ্তানির ক্ষেত্রে যে যে নিয়ম প্রযোজ্য হয়, সেই নিয়মের আওতায় বাসমতি ছাড়াও অন্য চাল রপ্তানি হচ্ছিল বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়। সেই পরিস্থিতিতে বাসমতি চালের রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত। বিশ্ববাজারে মোট চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই যায় ভারত থেকে। চাল রপ্তানির শীর্ষে থাকা অন্য দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

গত কয়েক সপ্তাহে খুচরা বাজারে চালের দাম এক মাসে ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের সরকার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় দেশটিতে চালের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

গত বছর ভারত ১৪০টি দেশে ২২ মিলিয়ন টন চাল রপ্তানি করেছে। যার মধ্যে ৬ মিলিয়ন টন ছিল তুলনামূলক কমদামী ইন্ডিকা চাল। (গত বছর বিশ্বব্যাপী চাল আমদানি-রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন টন)।

২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী যত চাল আমদানি-রপ্তানি হয়েছে তার ৭০ শতাংশ ছিল ইন্ডিকা চাল, আর এখন ভারত সেই চাল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছর দেশটি খুদের চাল এবং বাসমতি চাল রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করে। এরপরই আসল পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা।

প্রত্যাশিতভাবেই জুলাইয়ে ভারতের চাল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আইএমএফের অর্থনীতিবিদ পিয়ে-অলিভার গোরিনচাস বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা চালের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং বিশ্বব্যাপী শস্যের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।

ভারতের কৃষি নীতির বিশেষজ্ঞ দ্বেবিন্দর শর্মা বলেছেন, এল নিনোসহ অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে চালের উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর এ কারণে সরকার আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে।

অনেকের বিশ্বাস ভারতের চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ইফরি জানিয়েছে, বিশ্বের ৪২টি দেশ তাদের মোট আমদানির অর্ধেক চালই আনে ভারত থেকে। আফ্রিকার কিছু দেশ রয়েছে যেগুলো মোট আমদানির ৮০ শতাংশ যায় এশিয়ার এই দেশ থেকে। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস

Tag :

এবার বাসমতি চাল রপ্তানিতে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার

Update Time : ১২:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

আতপ চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একদিন পর এবার বাসমতি চাল রপ্তানিতে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। রোববার দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, বাসমতি ছাড়া অন্যান্য চালের রপ্তানি আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাসমতির মোড়কে অন্যান্য চাল রপ্তানি করা হচ্ছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে আসার পর নতুন এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এক টন বাসমতি চাল ১২০০ মার্কিন ডলারের কমে বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এর বেশিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ চাপানো হয়নি।

ভারত থেকে যে যে পণ্য রপ্তানি করা হয়, সেগুলোর মধ্যে সবথেকে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের তালিকার শীর্ষেই থাকে বাসমতি চাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে ৪.৭৯ বিলিয়ন ডলার অর্থের বাসমতি চাল বিদেশে পাঠানো হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকায় রপ্তানি করেছিল ভারত।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় জানানো হয়, সুগন্ধী বাসমতি চালের রপ্তানির ক্ষেত্রে যে যে নিয়ম প্রযোজ্য হয়, সেই নিয়মের আওতায় বাসমতি ছাড়াও অন্য চাল রপ্তানি হচ্ছিল বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়। সেই পরিস্থিতিতে বাসমতি চালের রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত। বিশ্ববাজারে মোট চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই যায় ভারত থেকে। চাল রপ্তানির শীর্ষে থাকা অন্য দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

গত কয়েক সপ্তাহে খুচরা বাজারে চালের দাম এক মাসে ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের সরকার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় দেশটিতে চালের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

গত বছর ভারত ১৪০টি দেশে ২২ মিলিয়ন টন চাল রপ্তানি করেছে। যার মধ্যে ৬ মিলিয়ন টন ছিল তুলনামূলক কমদামী ইন্ডিকা চাল। (গত বছর বিশ্বব্যাপী চাল আমদানি-রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন টন)।

২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী যত চাল আমদানি-রপ্তানি হয়েছে তার ৭০ শতাংশ ছিল ইন্ডিকা চাল, আর এখন ভারত সেই চাল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছর দেশটি খুদের চাল এবং বাসমতি চাল রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করে। এরপরই আসল পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা।

প্রত্যাশিতভাবেই জুলাইয়ে ভারতের চাল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আইএমএফের অর্থনীতিবিদ পিয়ে-অলিভার গোরিনচাস বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা চালের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং বিশ্বব্যাপী শস্যের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।

ভারতের কৃষি নীতির বিশেষজ্ঞ দ্বেবিন্দর শর্মা বলেছেন, এল নিনোসহ অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে চালের উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর এ কারণে সরকার আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে।

অনেকের বিশ্বাস ভারতের চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ইফরি জানিয়েছে, বিশ্বের ৪২টি দেশ তাদের মোট আমদানির অর্ধেক চালই আনে ভারত থেকে। আফ্রিকার কিছু দেশ রয়েছে যেগুলো মোট আমদানির ৮০ শতাংশ যায় এশিয়ার এই দেশ থেকে। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস