উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজ দেশকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কখনোই প্রয়োজনীয় পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগ করবে না। উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করা এবং কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, তার মোকাবেলাতেই এ ঘোষণা দেয় পিয়ংইয়ং। খবর এপি, গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) উত্তর কোরিয়ার পার্লমেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কিম বলেন, পার্লামেন্টে পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত বিশেষ একটি আইন পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি উত্তর কোরিযার নেতৃত্ব কোনো আক্রমণের মুখে পড়ে, তাহলে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে মোকাবেলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানোর অনুমতি পেয়ে যাবে।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ এ কথা জানায়।
কেসিএনএ আরও জানায়, আইনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের নীতি অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যান্য দেশের সাথে পারমাণবিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি ভাগাভাগিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইনটিতে।
সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া বক্তৃতায় কিম আরও বলেন, পরমাণু অস্ত্র নীতি আইন প্রণয়নের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, এটি এমন একটি অপরিবর্তনীয় ব্যবস্থা, যাতে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোন দর কষাকষি না হয়।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত ১৪তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির ৭তম অধিবেশনে পারমাণবিক অস্ত্র নীতি শিরোনামে একটি আইন পাস হয়। এতে ১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের উদ্দেশ্য, পারমাণবিক বাহিনীর গঠন, তাদের ওপর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রয়োগ, তাদের ব্যবহারের নীতি ও শর্তাবলী, সংঘবদ্ধকরণ, নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়।
কিম জং উন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার এশীয় মিত্রদের প্রতি পারমাণবিক সংঘাতের হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। বলছিলেন, যে কোনো হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়া সক্রিয়ভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।
উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা ২০১৯ সালেই হোঁচট খায়। এরপর পিয়ংইয়ং তার পরমাণু কার্যক্রম অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। প্রায় নিয়মিতভাবেই দেশটি নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ধারণা করে, কয়েক বছরের মধ্যেই কিম তাদের প্রথম পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা ঘোষণা দিয়ে বসতে পারে।
জো বাইডেন প্রশাসন কিমের সাথে যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় কথা বলার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল বলেছিলেন, পিয়ংইয়ং যদি তার অস্ত্রাগার ছেড়ে দিতে শুরু করে তবে তার দেশ প্রচুর পরিমাণে অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে। অবশ্য পিয়ংইয়ং এসব প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 











