ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিম-সবজির বাজারে অস্বস্তি, বেড়েছে তেলের দাম

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় অন্যতম ভরসা ডিম। তবে সেই ডিমের দামও এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুধু ডিম নয়, সবজির বাজারেও বেড়েছে অধিকাংশ পণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং হালি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা সামান্য ছাড় দিলেও এখন সেই সুযোগও থাকছে না।
ডিম বিক্রেতা কালাম বলেন, ‘ফার্মের মুরগির ডিম এখন হালি ৫৫ টাকা। দাম বাড়লেও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ও নতুন দাম নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজির বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা আগাম শিমের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তুলনামূলক স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।
এদিকে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ১৬০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজার অবশ্য তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত। প্রতি আঁটি লাল শাক ও কলমি শাক ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে। কোনো কোনো সবজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে এখন তেমন কোনো সবজি নেই। টমেটো, বেগুন ও করলা কিনতে গেলেও কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।’
মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দাম অবশ্য আগের অবস্থাতেই রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই মিলছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছ কিনতে কেজিপ্রতি হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা শামিম ইসলাম জানান, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী ও তুলনামূলক বেশি চাহিদার মাছ, বিশেষ করে নদীর বেলে কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি দিতে হচ্ছে।
Tag :

ডিম-সবজির বাজারে অস্বস্তি, বেড়েছে তেলের দাম

Update Time : ১২:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় অন্যতম ভরসা ডিম। তবে সেই ডিমের দামও এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুধু ডিম নয়, সবজির বাজারেও বেড়েছে অধিকাংশ পণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং হালি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা সামান্য ছাড় দিলেও এখন সেই সুযোগও থাকছে না।
ডিম বিক্রেতা কালাম বলেন, ‘ফার্মের মুরগির ডিম এখন হালি ৫৫ টাকা। দাম বাড়লেও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ও নতুন দাম নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজির বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা আগাম শিমের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তুলনামূলক স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।
এদিকে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ১৬০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজার অবশ্য তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত। প্রতি আঁটি লাল শাক ও কলমি শাক ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে। কোনো কোনো সবজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে এখন তেমন কোনো সবজি নেই। টমেটো, বেগুন ও করলা কিনতে গেলেও কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।’
মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দাম অবশ্য আগের অবস্থাতেই রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই মিলছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছ কিনতে কেজিপ্রতি হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা শামিম ইসলাম জানান, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী ও তুলনামূলক বেশি চাহিদার মাছ, বিশেষ করে নদীর বেলে কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি দিতে হচ্ছে।