ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র

তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাক

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের ওড়াউড়ির ভিডিও ভাইরাল হতেই হৈচৈ পড়ে গেছে সবখানে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন শিহরনজাগানো দৃশ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ একে আসন্ন মহাবিপর্যয়ের ‘অশুভ লক্ষণ’ বলছেন। কেউবা হারবিঞ্জার অব ডুম বা সর্বনাশের আগাম বার্তার সঙ্গে তুলনা করছেন। অনেকেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে বর্ণিত যুদ্ধ নিয়ে চরম বিপর্যয়ের বার্তা সংবলিত ভবিষ্যদ্বাণীরও সংশ্লিষ্টতা খুঁজছেন। পাখির অস্বাভাবিক ঝাঁককে আসন্ন ‘অমঙ্গলের বার্তা’ হিসেবে দেখা প্রাচীন উপকথা বা ব্রিটিশ ও রোমান সাম্রাজ্যের রীতিরও যোগসূত্র টানছেন। যদিও পাখি বিজ্ঞানীরা একে পরিযায়ী পাখির স্বাভাবিক চলন প্রক্রিয়া হিসেবে অভয় দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার তেল আবিবের সুপরিচিত আজরিয়েলি টাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি সুউচ্চ ভবনের চারপাশে হাজারো কাক ঘুরপাক খাচ্ছে—এমন নাটকীয় দৃশ্যের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল বলছে, অনেকেই এ শিহরণজাগানো দৃশ্যের সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের যোগসূত্র টানেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অনেকেই একে ‘সর্বনাশের আগাম বার্তা’ বিবেচনা করছেন, যার পরই আসে চরম বিপর্যয়।”

অনেকেই এর সঙ্গে বাইবেলে করা ভবিষ্যদ্বাণীরও সংশ্লিষ্টতা খুঁজছেন। তারা বলছেন, বুক অব রেভল্যুশনের ঊনবিংশতম অধ্যায়ের ১৭ নম্বর পদের কথা। যেখানে আর্মাগেডন বা চূড়ান্ত যুদ্ধের একটি দৃশ্যের বর্ণনা আছে। এ দৃশ্যে সূর্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্বর্গদূত মাঝ আকাশে উড়তে থাকা পাখির ঝাঁককে ‘ঈশ্বরের মহাভোজে’ জড়ো হতে চিৎকার করে ডাকেন। খবরে বলা হয়েছে, ঘুরপাক খাওয়া কাকের বিশাল ঝাঁক তেল আবিবের আকাশকে কালো করে দিয়েছিল, মনে হচ্ছিল যেন মেঘ একদিক থেকে অন্যদিকে যাচ্ছে—এমন দৃশ্য শহরের বাসিন্দা এবং পরে অনলাইন ব্যবহারকারীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

যদিও এই ভিডিও আসল কি না এবং তেল আবিবের আকাশ থেকেই তোলা হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, কাকের ঝাঁকের এ ঘুরপাকের ঘটনা তেল আবিবে নয়, অন্য কোথাও ঘটেছে। কেউ কেউ একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো ভিডিও-ও আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে পাখি নিয়ে গবেষণা করা একাধিক বিজ্ঞানী বলছেন, হাজারো কাকের এ ওড়াউড়ি মোটেও অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়, বছরের নির্দিষ্ট এক সময়ে পরিযায়ী পাখিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার অন্যতম ব্যস্ত পথ তেল আবিব; কাকের এই বিশাল ঝাঁক তারই অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর বসন্তে মোটাদাগে ৫০ কোটির মতো পাখি ইসরায়েল পাড়ি দেয়, কালোমাথা কাকেরা বাসা বাঁধতে শহরাঞ্চলগুলোতে জড়োও হয়।

মৌসুম পরিবর্তনকালীন আচরণ, পরিবেশগত কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাতসহ অনেক কারণে প্রতি বছরই মার্চ বা তার আশপাশের সময়ে হাজার হাজার কাককে তেল আবিবের মতো শহর ছাড়তে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই কাক ওড়ার নাটকীয় দৃশ্যকে নিয়মিত পরিযায়ী ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকেই তা মানতে চাইছেন না। তাদের মতে, বিশাল এই কাকের ঝাঁকের পেছনে ভয়ংকর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।

একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সভ্যতার জন্য ভয়ানক অশুভ লক্ষণ। ইংল্যান্ডে এমন কিছু ঘটলে তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো, রোমানরা হয়তো এই লক্ষণ দেখে পুরো যুদ্ধই বন্ধ করে দিত।’

প্রাচীন রোমে অগার্স নামে পরিচিত ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া যাজকরা আকাশের দিকে কড়া নজর রাখতেন। তারা পাখি ও তাদের ওড়াউড়ির ধরনকে ঈশ্বরের বার্তা হিসেবে দেখতেন এবং সেসব বার্তা যুদ্ধ, নেতৃত্ব বা বড় বড় অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখত।

অনেক প্রাচীন উপকথায়ও পাখির বিশাল বা অস্বাভাবিক ঝাঁককে আসন্ন ‘অমঙ্গলের বার্তা’ হিসেবে দেখা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে এ ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টাওয়ার অব লন্ডনে রাখা সুবিখ্যাত দাঁড়কাকগুলোর প্রসঙ্গও টেনেছেন। কথিত আছে, ‘দাঁড়কাকগুলো দুর্গটি ছেড়ে গেলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে।’ ঐতিহ্য ধরে রাখতে টাওয়ারটিতে এখনো স্থায়ীভাবে অন্তত ছয়টি দাঁড়কাক রাখা হয়। এক দাঁড়কাক বিশারদ তাদের দেখাশোনাও করেন।

Tag :
জনপ্রিয়

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাক

Update Time : ০৩:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের ওড়াউড়ির ভিডিও ভাইরাল হতেই হৈচৈ পড়ে গেছে সবখানে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন শিহরনজাগানো দৃশ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ একে আসন্ন মহাবিপর্যয়ের ‘অশুভ লক্ষণ’ বলছেন। কেউবা হারবিঞ্জার অব ডুম বা সর্বনাশের আগাম বার্তার সঙ্গে তুলনা করছেন। অনেকেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে বর্ণিত যুদ্ধ নিয়ে চরম বিপর্যয়ের বার্তা সংবলিত ভবিষ্যদ্বাণীরও সংশ্লিষ্টতা খুঁজছেন। পাখির অস্বাভাবিক ঝাঁককে আসন্ন ‘অমঙ্গলের বার্তা’ হিসেবে দেখা প্রাচীন উপকথা বা ব্রিটিশ ও রোমান সাম্রাজ্যের রীতিরও যোগসূত্র টানছেন। যদিও পাখি বিজ্ঞানীরা একে পরিযায়ী পাখির স্বাভাবিক চলন প্রক্রিয়া হিসেবে অভয় দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার তেল আবিবের সুপরিচিত আজরিয়েলি টাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি সুউচ্চ ভবনের চারপাশে হাজারো কাক ঘুরপাক খাচ্ছে—এমন নাটকীয় দৃশ্যের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল বলছে, অনেকেই এ শিহরণজাগানো দৃশ্যের সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের যোগসূত্র টানেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অনেকেই একে ‘সর্বনাশের আগাম বার্তা’ বিবেচনা করছেন, যার পরই আসে চরম বিপর্যয়।”

অনেকেই এর সঙ্গে বাইবেলে করা ভবিষ্যদ্বাণীরও সংশ্লিষ্টতা খুঁজছেন। তারা বলছেন, বুক অব রেভল্যুশনের ঊনবিংশতম অধ্যায়ের ১৭ নম্বর পদের কথা। যেখানে আর্মাগেডন বা চূড়ান্ত যুদ্ধের একটি দৃশ্যের বর্ণনা আছে। এ দৃশ্যে সূর্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্বর্গদূত মাঝ আকাশে উড়তে থাকা পাখির ঝাঁককে ‘ঈশ্বরের মহাভোজে’ জড়ো হতে চিৎকার করে ডাকেন। খবরে বলা হয়েছে, ঘুরপাক খাওয়া কাকের বিশাল ঝাঁক তেল আবিবের আকাশকে কালো করে দিয়েছিল, মনে হচ্ছিল যেন মেঘ একদিক থেকে অন্যদিকে যাচ্ছে—এমন দৃশ্য শহরের বাসিন্দা এবং পরে অনলাইন ব্যবহারকারীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

যদিও এই ভিডিও আসল কি না এবং তেল আবিবের আকাশ থেকেই তোলা হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, কাকের ঝাঁকের এ ঘুরপাকের ঘটনা তেল আবিবে নয়, অন্য কোথাও ঘটেছে। কেউ কেউ একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো ভিডিও-ও আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে পাখি নিয়ে গবেষণা করা একাধিক বিজ্ঞানী বলছেন, হাজারো কাকের এ ওড়াউড়ি মোটেও অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়, বছরের নির্দিষ্ট এক সময়ে পরিযায়ী পাখিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার অন্যতম ব্যস্ত পথ তেল আবিব; কাকের এই বিশাল ঝাঁক তারই অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর বসন্তে মোটাদাগে ৫০ কোটির মতো পাখি ইসরায়েল পাড়ি দেয়, কালোমাথা কাকেরা বাসা বাঁধতে শহরাঞ্চলগুলোতে জড়োও হয়।

মৌসুম পরিবর্তনকালীন আচরণ, পরিবেশগত কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাতসহ অনেক কারণে প্রতি বছরই মার্চ বা তার আশপাশের সময়ে হাজার হাজার কাককে তেল আবিবের মতো শহর ছাড়তে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই কাক ওড়ার নাটকীয় দৃশ্যকে নিয়মিত পরিযায়ী ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অনেকেই তা মানতে চাইছেন না। তাদের মতে, বিশাল এই কাকের ঝাঁকের পেছনে ভয়ংকর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।

একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সভ্যতার জন্য ভয়ানক অশুভ লক্ষণ। ইংল্যান্ডে এমন কিছু ঘটলে তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো, রোমানরা হয়তো এই লক্ষণ দেখে পুরো যুদ্ধই বন্ধ করে দিত।’

প্রাচীন রোমে অগার্স নামে পরিচিত ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া যাজকরা আকাশের দিকে কড়া নজর রাখতেন। তারা পাখি ও তাদের ওড়াউড়ির ধরনকে ঈশ্বরের বার্তা হিসেবে দেখতেন এবং সেসব বার্তা যুদ্ধ, নেতৃত্ব বা বড় বড় অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখত।

অনেক প্রাচীন উপকথায়ও পাখির বিশাল বা অস্বাভাবিক ঝাঁককে আসন্ন ‘অমঙ্গলের বার্তা’ হিসেবে দেখা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে এ ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টাওয়ার অব লন্ডনে রাখা সুবিখ্যাত দাঁড়কাকগুলোর প্রসঙ্গও টেনেছেন। কথিত আছে, ‘দাঁড়কাকগুলো দুর্গটি ছেড়ে গেলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে।’ ঐতিহ্য ধরে রাখতে টাওয়ারটিতে এখনো স্থায়ীভাবে অন্তত ছয়টি দাঁড়কাক রাখা হয়। এক দাঁড়কাক বিশারদ তাদের দেখাশোনাও করেন।