ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনের উপর আবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, নিহত ১৭

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনের ভিড়ে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ১৭ জন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০ জন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, স্থানীয় সময় আজ রোববার (৩১ মার্চ) হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার আল কুয়েত গোলচত্বরে হামলায় নিহতের সংখ্যা ১২ জন থেকে বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। হামলায় আরও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। সাহায্যপ্রার্থী ফিলিস্তিনিরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজার ওই মোড়ে জড়ো হচ্ছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তারা একের পর এক ইসরায়েলি হামলার শিকার হচ্ছে।

এর আগে, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট বলেছিল, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার একই গোলচত্বরে সাহায্য বিতরণের সময় বন্দুক হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সেসময় হাজার হাজার মানুষ সেখানে ময়দা এবং অন্যান্য সরবরাহ বহনকারী ট্রাকগুলোর আসার অপেক্ষায় জড়ো হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ত্রাণ বিতরণের তত্ত্বাবধানকারী গাজাবাসীরা ফাঁকা গুলি চালায়, তবে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যরাও গুলি চালায় এবং কিছু চলন্ত ট্রাক খাবার নেয়ার চেষ্টা করা লোকেদের আঘাত করে। এতেই হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা মেডিক্যাল টিম এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের সহায়তার হতাহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের ‘বেদনাদায়ক দৃশ্য’ বর্ণনা করেছেন।

ওইদিন থেকে পাল্টা আক্রমণে তীব্র আক্রোশে গাজার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার দেশটি।

ইসরায়েলি এ হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রায় ছয় মাসের মতো সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৩২ হাজার ৬২৩ ফিলিস্তিনি। আর আহত ৭৫ হাজার ৯২ জন। ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজার বাসিন্দারা প্রায় সবাই উদ্বাস্তু হয়ে গেছে।

কঠোর অবরোধ ও অবিরাম হামলার মধ্যে থাকা গাজাবাসীরা অনাহারে ভুগতে ভুগতে দুর্ভিক্ষের প্রান্তে চলে গেছে। ইতোমধ্যে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় শিশুসহ অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুধায় কাতরানো মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন।

Tag :

ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনের উপর আবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, নিহত ১৭

Update Time : ০৪:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনের ভিড়ে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ১৭ জন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০ জন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, স্থানীয় সময় আজ রোববার (৩১ মার্চ) হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার আল কুয়েত গোলচত্বরে হামলায় নিহতের সংখ্যা ১২ জন থেকে বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। হামলায় আরও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। সাহায্যপ্রার্থী ফিলিস্তিনিরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজার ওই মোড়ে জড়ো হচ্ছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তারা একের পর এক ইসরায়েলি হামলার শিকার হচ্ছে।

এর আগে, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট বলেছিল, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার একই গোলচত্বরে সাহায্য বিতরণের সময় বন্দুক হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সেসময় হাজার হাজার মানুষ সেখানে ময়দা এবং অন্যান্য সরবরাহ বহনকারী ট্রাকগুলোর আসার অপেক্ষায় জড়ো হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ত্রাণ বিতরণের তত্ত্বাবধানকারী গাজাবাসীরা ফাঁকা গুলি চালায়, তবে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যরাও গুলি চালায় এবং কিছু চলন্ত ট্রাক খাবার নেয়ার চেষ্টা করা লোকেদের আঘাত করে। এতেই হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা মেডিক্যাল টিম এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের সহায়তার হতাহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের ‘বেদনাদায়ক দৃশ্য’ বর্ণনা করেছেন।

ওইদিন থেকে পাল্টা আক্রমণে তীব্র আক্রোশে গাজার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার দেশটি।

ইসরায়েলি এ হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রায় ছয় মাসের মতো সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৩২ হাজার ৬২৩ ফিলিস্তিনি। আর আহত ৭৫ হাজার ৯২ জন। ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজার বাসিন্দারা প্রায় সবাই উদ্বাস্তু হয়ে গেছে।

কঠোর অবরোধ ও অবিরাম হামলার মধ্যে থাকা গাজাবাসীরা অনাহারে ভুগতে ভুগতে দুর্ভিক্ষের প্রান্তে চলে গেছে। ইতোমধ্যে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় শিশুসহ অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুধায় কাতরানো মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন।