ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ভারতের নয়া দিল্লিস্থ বিএসএফ সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। সম্মেলনটি আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।

এবারের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। অপরদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ৪ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয় এজেন্ডায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও জোরপূর্বক পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা।

এছাড়া ভারত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সম্মেলনের অন্যান্য এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে- তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম হতে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা হতে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রমের দ্রুত নিষ্পত্তি।

একই সাথে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ এবং ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধের বিষয়ে জোরালো আলোচনা হবে।

উভয় দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু

Update Time : ০৩:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ভারতের নয়া দিল্লিস্থ বিএসএফ সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। সম্মেলনটি আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।

এবারের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। অপরদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ৪ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয় এজেন্ডায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও জোরপূর্বক পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা।

এছাড়া ভারত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সম্মেলনের অন্যান্য এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে- তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম হতে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা হতে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রমের দ্রুত নিষ্পত্তি।

একই সাথে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ এবং ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধের বিষয়ে জোরালো আলোচনা হবে।

উভয় দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।