ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধ কৌশল ছিল

ইউনিসেফের উদ্যোগে জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ স্পষ্টতই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা। কারণ বঙ্গবন্ধু তার ওই বক্তব্যে দুইবার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

রবিবার (৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অলিখিত একটা নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইতিহাস এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে দাবায়ে রাখা যায় না। আর বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যাবে না। এটি বঙ্গবন্ধু নিজেই ৭ মার্চের ভাষণে বলে গেছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে। ইউনিসেফ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি এটি জানিয়েছেন। এ ভাষণ জাতিসংঘেরও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে এটি। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এটিই সবচেয়ে বড় সফলতা।
তিনি আরো বলেন, এ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দিক আছে; বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও রণকৌশল। এটি যে স্বাধীনতার যুদ্ধ সেটিও স্পষ্টত বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন। সেসময় পূর্ববাংলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ৩২ নম্বর থেকে হতো। ৩২ নম্বর থেকে যা যা নির্দেশনা দিয়েছেন, বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে সেসব পালন করেছে।

‘বঙ্গবন্ধু জানতেন যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সমঙ তিনি না-ও বেঁচে থাকতে পারেন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধ কৌশল ছিল। কারণ তিনি গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জাতিকে সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন এ ভাষণে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে তার বক্তব্য কতটা কার্যকর, তার প্রতিটি পদক্ষেপ কতটা বাস্তব! এক্ষেতেও এ ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংস্কৃতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও সংস্কৃতি সচিব বদরুল আরেফীন।
Tag :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধ কৌশল ছিল

Update Time : ০৪:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১
ইউনিসেফের উদ্যোগে জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ স্পষ্টতই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা। কারণ বঙ্গবন্ধু তার ওই বক্তব্যে দুইবার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

রবিবার (৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অলিখিত একটা নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইতিহাস এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে দাবায়ে রাখা যায় না। আর বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যাবে না। এটি বঙ্গবন্ধু নিজেই ৭ মার্চের ভাষণে বলে গেছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করে প্রচার করা হচ্ছে। ইউনিসেফ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি এটি জানিয়েছেন। এ ভাষণ জাতিসংঘেরও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে এটি। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এটিই সবচেয়ে বড় সফলতা।
তিনি আরো বলেন, এ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দিক আছে; বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও রণকৌশল। এটি যে স্বাধীনতার যুদ্ধ সেটিও স্পষ্টত বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন। সেসময় পূর্ববাংলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ৩২ নম্বর থেকে হতো। ৩২ নম্বর থেকে যা যা নির্দেশনা দিয়েছেন, বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে সেসব পালন করেছে।

‘বঙ্গবন্ধু জানতেন যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সমঙ তিনি না-ও বেঁচে থাকতে পারেন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি অত্যন্ত কার্যকর যুদ্ধ কৌশল ছিল। কারণ তিনি গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জাতিকে সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন এ ভাষণে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে তার বক্তব্য কতটা কার্যকর, তার প্রতিটি পদক্ষেপ কতটা বাস্তব! এক্ষেতেও এ ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংস্কৃতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও সংস্কৃতি সচিব বদরুল আরেফীন।