ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে এসএসসির ফল ১০ আগস্ট প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট রবীন্দ্রপ্রয়াণ ৮৫ বছর: এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আজ থেকেজনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, যেভাবে পাবেন টিকিট দেশের বাজারে বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ আগস্ট ২০২৬ শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরান

ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ দেয়া হবে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি ইরানের প্রতি এখন পর্যন্ত দেয়া সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি।
তবে এই প্রস্তাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি চুক্তি আসন্ন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইরানকে দেয়ার বিষয়ে তারা কখনই সম্মত হবেন না।
যদি এমন একটি চুক্তি হয়, যাতে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান কর্তৃত্ব পায়, তবে এর অর্থ হবে—ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে তেহরানের পক্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের আগে প্রণালিটি সব জাহাজের জন্য অবাধে উন্মুক্ত ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না।
অঞ্চলজুড়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে, ইরান ও ওমান প্রণালিটি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রণালির উত্তর দিকের চ্যানেল ইরানের এবং দক্ষিণ দিকের চ্যানেল ওমানের নিয়ন্ত্রণে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থান—উভয় যাত্রাই ইরানের জলসীমা দিয়ে সম্পন্ন হবে।
এদিকে পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা হলে, পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের হুমকির মুখে ফেলে সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।
উপসাগরীয় এক সূত্র বলেন, ইরানের সতর্কবার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে তারা পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে।
ইরান ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। একই সঙ্গে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
লাস ভেগাসে সমর্থকদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই বেশি প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, আমি একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না। আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না, কিন্তু একসময় হয়তো আমাদের তা করতেই হবে।
Tag :

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে এসএসসির ফল ১০ আগস্ট

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরান

Update Time : ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ দেয়া হবে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি ইরানের প্রতি এখন পর্যন্ত দেয়া সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি।
তবে এই প্রস্তাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি চুক্তি আসন্ন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইরানকে দেয়ার বিষয়ে তারা কখনই সম্মত হবেন না।
যদি এমন একটি চুক্তি হয়, যাতে প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান কর্তৃত্ব পায়, তবে এর অর্থ হবে—ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে তেহরানের পক্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের আগে প্রণালিটি সব জাহাজের জন্য অবাধে উন্মুক্ত ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না।
অঞ্চলজুড়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে, ইরান ও ওমান প্রণালিটি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রণালির উত্তর দিকের চ্যানেল ইরানের এবং দক্ষিণ দিকের চ্যানেল ওমানের নিয়ন্ত্রণে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থান—উভয় যাত্রাই ইরানের জলসীমা দিয়ে সম্পন্ন হবে।
এদিকে পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা হলে, পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের হুমকির মুখে ফেলে সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।
উপসাগরীয় এক সূত্র বলেন, ইরানের সতর্কবার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে তারা পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে।
ইরান ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। একই সঙ্গে, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
লাস ভেগাসে সমর্থকদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই বেশি প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, আমি একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না। আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না, কিন্তু একসময় হয়তো আমাদের তা করতেই হবে।