প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টিকা দেওয়া কর্মসূচি অব্যাহত থাকলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে মেলায় আসতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থাকা মানে হলো অন্যকেও সুরক্ষিত রাখা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ভার্চুয়ালি অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এবং স্বাগত বক্তৃতা দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানে ১০ লেখককে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু রচিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’, অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোচনামজা ইতিহাসের সাক্ষী। বইগুলো পড়লে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসের আসল ইতিহাস পাওয়া যাবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে আমরা সাড়ে ৭ হাজার শিল্পীকে কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা সহযোগিতা করেছি। এমনকি যারা রিকশার পেছনে যারা ছবি আঁকতেন, যারা যন্ত্রশিল্পী তাদেরকেও সহযোগিতা করেছি।
বাংলা ভাষার কারণে বিশ্ব আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার জন্য না, এটি পুরো বিশ্বের ভাষার জন্য। সেজন্য আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও গড়েছি। নিজের ভাষা জানার পাশাপাশি অন্য ভাষাও জানতে হবে। বিশেষ করে অনুবাদ, অনুবাদের মাধ্যমে আমরা অন্য দেশের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ইতিহাস জানতে পারি।
রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে সাহিত্যের আবেদন বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে সাহিত্যের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারে। অন্য দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি সব জানা যায়। সেজন্য ভাষার ওপর গবেষণা করতে হবে, অনুবাদ করতে হবে।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ডিজিটাল ডিভাইস থেকেও বই পড়া যায়। তবে ডিজিটাল ডিভাইসের চেয়ে কাগজের বই পড়ার মজা আলাদা। বইয়ের আবেদন কখনও মুছে যাবে না, ফুরাবে না।
আমাদের নতুন প্রজন্মের যেন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠে সে বিষয়ে সবাইকে তাগিদ দিয়ে বলেন, ছোটদের বই পড়ে শোনাতে হবে। ছোটদের সব সময় বইয়ের সংস্পর্শে নিয়ে আসতে হবে। তাদের জন্য ছোটো একটা লাইব্রেরিও রাখতে হবে।
অনলাইন ডেস্ক 






















