ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন

বাঙালির শোকের মাস আগস্ট, সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড

বাঙালির জাতির শোকের মাস আগস্ট শুরু হয়েছে আজ রোববার থেকে। এ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড।

১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে খুন হন।
বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলও হত্যার শিকার হন।
’৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।
আবার এই শোকের মাসেই আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্ম হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

বাঙালিরা তাকে হত্যা করবে- এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসই করতে পারেন নি। তিনি ভেবেছিলেন পাকিস্তানীরা তাকে মারেনি, বাঙালিরা তাকে মারবে না- এই বিশ্বাসটা তার মধ্যে ছিল।

রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেটা আজো আবিস্কার হয়নি। তবে একদিন সেটা নিশ্চয়ই আবিস্কার হবে। আমার এই মুহুর্তে একটাই কাজ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কে জড়িত, সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হলো এ দেশের ক্ষুধার্থ, নীরিহ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। আর সে লক্ষেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার রায়ের দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা জাতির পিতার বিচার কাজ করতে পেরেছি। মামলার দীর্ঘ শুনানীর পর যেদিন এই মামলার রায় হবে, ঠিক সেদিনই খালেদা জিয়া হরতাল ডেকেছিলেন। যাতে সেদিন কোর্ট না খুলে। বিচারক কোর্টে যেতে না পারে এবং এই মামলার রায় না দিতে পারে। সেজন্যই সেদিন বিএনপি হরতাল দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে সেদিন রায় হয়েছিল।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। আলোচনা সভার সঞ্চালণা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। এ সময় গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র

বাঙালির শোকের মাস আগস্ট, সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড

Update Time : ০৭:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১
বাঙালির জাতির শোকের মাস আগস্ট শুরু হয়েছে আজ রোববার থেকে। এ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড।

১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে খুন হন।
বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলও হত্যার শিকার হন।
’৭৫-এর ১৫ আগস্ট খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।
আবার এই শোকের মাসেই আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্ম হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

বাঙালিরা তাকে হত্যা করবে- এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসই করতে পারেন নি। তিনি ভেবেছিলেন পাকিস্তানীরা তাকে মারেনি, বাঙালিরা তাকে মারবে না- এই বিশ্বাসটা তার মধ্যে ছিল।

রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেটা আজো আবিস্কার হয়নি। তবে একদিন সেটা নিশ্চয়ই আবিস্কার হবে। আমার এই মুহুর্তে একটাই কাজ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কে জড়িত, সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হলো এ দেশের ক্ষুধার্থ, নীরিহ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। আর সে লক্ষেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার রায়ের দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা জাতির পিতার বিচার কাজ করতে পেরেছি। মামলার দীর্ঘ শুনানীর পর যেদিন এই মামলার রায় হবে, ঠিক সেদিনই খালেদা জিয়া হরতাল ডেকেছিলেন। যাতে সেদিন কোর্ট না খুলে। বিচারক কোর্টে যেতে না পারে এবং এই মামলার রায় না দিতে পারে। সেজন্যই সেদিন বিএনপি হরতাল দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে সেদিন রায় হয়েছিল।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। আলোচনা সভার সঞ্চালণা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। এ সময় গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়।