ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ফেবারিটদের তালিকায় রাখছেন না দলটির গোলকিপার ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’, চামড়া থেকে চিপ, বৈপ্লবিক পরিবর্তন গোলাপ জলে ‘শুদ্ধি’ সেরে ব্রাজিল ছেড়ে ফ্রান্সের সমর্থক ফরিদপুরের পরিচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বাজেট উপস্থাপনের পরের দিনও বাজার পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন আজ আগামী মহররম মাসে অনুষ্ঠিত হবে নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ফিফার সদ্য প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে লিওনেল মেসির দল এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১১ জুন ২০২৬ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া

বাজেট উপস্থাপনের পরের দিনও বাজার পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক

ঈদুল আজহার আমেজ শেষে ঘোষিত হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেট। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর পরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বা দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোতে পণ্যের দামে খুব একটা হেরফের দেখা যাচ্ছে না। ঠিক বাজেট উপস্থাপনের পরের দিনও পরিস্থিতি রয়েছে একদম স্বাভাবিক।

ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ সালের নতুন বাজেটে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হুট করে বেড়ে যাওয়ার মতো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ছিল না। ফলে কর বা শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্য মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাননি অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আবার ​সংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, এবারের বাজেটে উল্টো বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে ধান, চাল, গম, আলু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবের পর এসব পণ্যের দাম বাজারে আরও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে পড়তে দেখা যায়নি।

jagonews24

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

​খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাঁচা বাজারে সবজি, মাছ, মাংস, ডিমসহ মুদি পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম গত ঈদের আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ দামের মধ্যে কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। আরও কমে পেঁপে ৩০- ৪০ টাকা , ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর ঢাকার বাজারে মানুষের চাপ কম থাকায় সবজির চাহিদা কিছুটা কম, যার কারণে সরবরাহ ভালো থাকায় দাম বাড়েনি।

এদিকে, এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের ঠিক আগে কিছুটা চড়া ছিল। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বাজারে আলুর কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা।

jagonews24

এসব পণ্যে কর কমার প্রভাব প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজেটে কর কমানোর কথা শুনছি, কিন্তু সেই সুবিধা আমাদের পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা আগের কেনা দামেই মালামাল বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, তবে এবার ভালো দিক হলো, বাজেটের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। এখন পাইকারি বাজারে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

​শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পরদিনই অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবার অন্তত সেই আতঙ্কটা নেই। ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ বা তেলের দাম আগের মতোই আছে।

ক্রেতারা বলছেন, সরকার যে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমিয়েছে, তার সুফল যেন সাধারণ মানুষ দ্রুত পায়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত। প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং জোরদার রাখা।

Tag :

ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ফেবারিটদের তালিকায় রাখছেন না দলটির গোলকিপার

বাজেট উপস্থাপনের পরের দিনও বাজার পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক

Update Time : ১১:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ঈদুল আজহার আমেজ শেষে ঘোষিত হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেট। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর পরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বা দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোতে পণ্যের দামে খুব একটা হেরফের দেখা যাচ্ছে না। ঠিক বাজেট উপস্থাপনের পরের দিনও পরিস্থিতি রয়েছে একদম স্বাভাবিক।

ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ সালের নতুন বাজেটে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হুট করে বেড়ে যাওয়ার মতো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ছিল না। ফলে কর বা শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্য মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাননি অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আবার ​সংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, এবারের বাজেটে উল্টো বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে ধান, চাল, গম, আলু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবের পর এসব পণ্যের দাম বাজারে আরও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে পড়তে দেখা যায়নি।

jagonews24

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

​খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাঁচা বাজারে সবজি, মাছ, মাংস, ডিমসহ মুদি পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম গত ঈদের আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ দামের মধ্যে কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। আরও কমে পেঁপে ৩০- ৪০ টাকা , ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর ঢাকার বাজারে মানুষের চাপ কম থাকায় সবজির চাহিদা কিছুটা কম, যার কারণে সরবরাহ ভালো থাকায় দাম বাড়েনি।

এদিকে, এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের ঠিক আগে কিছুটা চড়া ছিল। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বাজারে আলুর কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা।

jagonews24

এসব পণ্যে কর কমার প্রভাব প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজেটে কর কমানোর কথা শুনছি, কিন্তু সেই সুবিধা আমাদের পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা আগের কেনা দামেই মালামাল বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, তবে এবার ভালো দিক হলো, বাজেটের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। এখন পাইকারি বাজারে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

​শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পরদিনই অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবার অন্তত সেই আতঙ্কটা নেই। ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ বা তেলের দাম আগের মতোই আছে।

ক্রেতারা বলছেন, সরকার যে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমিয়েছে, তার সুফল যেন সাধারণ মানুষ দ্রুত পায়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত। প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিং জোরদার রাখা।