(কোভিড-১৯) প্রতিরোধে চলমান বিধিনিষেধ কার্যক্রম পরিচালনা ও টিকাদান জোরদার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এতে অংশ নিতে এর মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তথ্য যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, তিন বাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি মহাপরিচালক, নির্বাচন কমিশনের সচিব, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকের কার্যসূচিতে বলা হয়েছে, ‘বিধিনিষেধ কার্যক্রম পরিচালনা ও টিকাদান জোরদার বিষয়ে আলোচনা হবে।’
এদিকে লকডাউন বা বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রভাবে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক জায়গায় থেমে গেছে বলে মনে করছে সরকার।
তিনি বলেছেন, সরকারের পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসের শুরু থেকেই লকডাউন বা বিধিনিষেধের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে ২০০’র ঘরে এবং সংক্রমণ ১১ হাজারে আটকে গেছে।
ফরহাদ হোসেন উল্লেখ করেছেন, লকডাউন বা বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতো বলেই সরকার মনে করে।
একইসাথে গ্রামে-গঞ্জে সংক্রমণ এখনো উর্ধ্বমুখী রয়েছে। সেই পরিস্থিতিও মন্ত্রিসভার আলোচনায় এসেছে। সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই কোভিড রোগীর ৭৫ শতাংশই গ্রাম থেকে এসেছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী চলমান বিধিনিষেধ ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করার অবস্থানে অটল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, টিকা দেয়ার কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত লকডাউন বা বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করার বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন।
সেজন্য সংক্রমণের চেইন ভাঙার টার্গেট নিয়ে এখন ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে গার্মেন্টস বা কোনো শিল্প-কারখানা চালু না করার অবস্থানেই সরকার রয়েছে বলে ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন।
সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে গত এপ্রিল মাসে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে পহেলা জুলাই থেকে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকাসহ সারাদেশকে বিধিনিষেধের আওতায় নেয়া হয়েছিল।
ঈদের সময় সাত দিন বাদ দিয়ে আবার ২৩ জুলাই থেকে দুই সপ্তাহের লকডাউন বা ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ এখন চলছে।
এরপর বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে নাকি শিথিল করা হবে- সেই প্রশ্নে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলা হচ্ছে না।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আগামী সপ্তাহে আবারো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সূত্র : বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক 

















