ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ও বাবার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮ Time View

মা খালেদা জিয়া ও বাবা জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতায় ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরে জনসভার মাধ্যমে শুরু হবে তার নির্বাচনি যাত্রা। এর মধ্য দিয়ে দলের চেয়ারম্যান তো বটেই, জীবনের প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে নামছেন তারেক রহমান। ভোটের প্রচারে আজ দিনভর ব্যস্ত সময় পার করবেন মাসখানেক আগে দেশেফেরা বিএনপির শীর্ষনেতা।

ঢাকায় ফেরার পথে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে অংশ  নেবেন সাত পথসভায়। পরিচয় করিয়ে দেবেন দলের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থীদের। প্রচারের প্রথম দিন বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনগণের ভোট আদায়ে প্রতিশ্রুতি দেবেন তৃণমূলের সেবা আর উন্নয়নের।

দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর বুধবার রাত ৮টার দিকে সস্ত্রীক সিলেট পৌঁছেছেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে যান হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরানের (রহ.) মাজারে। জিয়ারত শেষে রাতেই স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে যান তারেক রহমান।

সেখানে তিনি জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল শেষে তারেক রহমান এবং তার সফরসঙ্গীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার লোকজনের জন্য খাবার পরিবেশন করা হয়। এটি বিতরণ করা হয় ‘শিরনি’ হিসেবে। শ্বশুরবাড়িতে ঘণ্টাদুয়েক সময় কাটানোর পর পাঁচ তারকাবিশিষ্ট গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে রাত্রিযাপন করেন।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও তোরণ বানানো হয়। কোনো কোনো বিলবোর্ড ও তোরণে ‘দুলাভাইকে পুণ্যভূমিতে স্বাগতম’, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগতম’ ইত্যাদি লেখা দেখা যায়।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে এলেন। ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো এলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের বিয়ে হয়। জুবাইদা রহমানের বাবা সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান রিয়াল অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন।

সকাল থেকে মধ্যরাত ব্যস্ত প্রচারে :
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর মাধ্যমে পুণ্যভূমি সিলেট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রচারে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জন্য সেবা ও উন্নয়নমূলক নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরবেন। ক্ষমতায় গেলে বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড সেবা নিশ্চিতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। দেশে ফেরার পরপরই তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর বিস্তারিত তথ্য ৮টি স্তরে তুলে ধরবেন। যা মূলত বিএনপির ৩১ দফার আলোকেই সাজানো হয়েছে।

২২ বছর আগে তারেক রহমান যখন সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রাখছেন।

সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় সাতটি পথসভায় অংশ নিয়ে ধানের শীষের প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, নরসিংদী শহর ও সবশেষ রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সভা করার কথা রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দীর্ঘদিন পর তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা ভিড় করছেন সভাস্থলে। পথসভা সফল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তোরণ আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে এসব এলাকা। সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি মনোনীত ও জোটসমর্থিত প্রার্থীকে জনসভায় পরিচয় করে ভোট চাইবেন তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদিকে সিলেটে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাইকিং, প্রস্তুতি সভা, প্রচার শেষ করেছেন।

গতকাল বিকালে সরেজমিন সিলেট আলিয়া মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদরাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আশপাশে হকাররা বিক্রি করছেন প্লাস্টিকের ধানের শীষ ও কোটপিন, বিএনপির পতাকা, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি।

বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় দেখা যায়, তারেক রহমানের ছবিসংবলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে।
জনসভায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জনসভা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।

সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

Tag :
জনপ্রিয়

মা ও বাবার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন

Update Time : ০৫:৫৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

মা খালেদা জিয়া ও বাবা জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতায় ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরে জনসভার মাধ্যমে শুরু হবে তার নির্বাচনি যাত্রা। এর মধ্য দিয়ে দলের চেয়ারম্যান তো বটেই, জীবনের প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে নামছেন তারেক রহমান। ভোটের প্রচারে আজ দিনভর ব্যস্ত সময় পার করবেন মাসখানেক আগে দেশেফেরা বিএনপির শীর্ষনেতা।

ঢাকায় ফেরার পথে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে অংশ  নেবেন সাত পথসভায়। পরিচয় করিয়ে দেবেন দলের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থীদের। প্রচারের প্রথম দিন বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনগণের ভোট আদায়ে প্রতিশ্রুতি দেবেন তৃণমূলের সেবা আর উন্নয়নের।

দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর বুধবার রাত ৮টার দিকে সস্ত্রীক সিলেট পৌঁছেছেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে যান হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরানের (রহ.) মাজারে। জিয়ারত শেষে রাতেই স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে যান তারেক রহমান।

সেখানে তিনি জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল শেষে তারেক রহমান এবং তার সফরসঙ্গীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার লোকজনের জন্য খাবার পরিবেশন করা হয়। এটি বিতরণ করা হয় ‘শিরনি’ হিসেবে। শ্বশুরবাড়িতে ঘণ্টাদুয়েক সময় কাটানোর পর পাঁচ তারকাবিশিষ্ট গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে রাত্রিযাপন করেন।

অন্যদিকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও তোরণ বানানো হয়। কোনো কোনো বিলবোর্ড ও তোরণে ‘দুলাভাইকে পুণ্যভূমিতে স্বাগতম’, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগতম’ ইত্যাদি লেখা দেখা যায়।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে এলেন। ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো এলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের বিয়ে হয়। জুবাইদা রহমানের বাবা সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান রিয়াল অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন।

সকাল থেকে মধ্যরাত ব্যস্ত প্রচারে :
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর মাধ্যমে পুণ্যভূমি সিলেট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রচারে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জন্য সেবা ও উন্নয়নমূলক নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরবেন। ক্ষমতায় গেলে বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড সেবা নিশ্চিতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। দেশে ফেরার পরপরই তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর বিস্তারিত তথ্য ৮টি স্তরে তুলে ধরবেন। যা মূলত বিএনপির ৩১ দফার আলোকেই সাজানো হয়েছে।

২২ বছর আগে তারেক রহমান যখন সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রাখছেন।

সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় সাতটি পথসভায় অংশ নিয়ে ধানের শীষের প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, নরসিংদী শহর ও সবশেষ রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সভা করার কথা রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দীর্ঘদিন পর তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা ভিড় করছেন সভাস্থলে। পথসভা সফল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তোরণ আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে এসব এলাকা। সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি মনোনীত ও জোটসমর্থিত প্রার্থীকে জনসভায় পরিচয় করে ভোট চাইবেন তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদিকে সিলেটে তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাইকিং, প্রস্তুতি সভা, প্রচার শেষ করেছেন।

গতকাল বিকালে সরেজমিন সিলেট আলিয়া মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদরাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আশপাশে হকাররা বিক্রি করছেন প্লাস্টিকের ধানের শীষ ও কোটপিন, বিএনপির পতাকা, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি।

বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় দেখা যায়, তারেক রহমানের ছবিসংবলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে।
জনসভায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জনসভা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।

সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিব।