রাজদায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন নরওয়ের রাজকুমারী মার্থা লুইস (৫১)। হবু স্বামী ডুরেক ভেরেটের সঙ্গে যৌথভাবে বিকল্প ওষুধ ব্যবসায় মনোনিবেশ করার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ডুরেক একজন স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু (শামন)। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নরওয়ের রয়্যাল হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজকুমারী মার্থা লুইস বিকল্প ওষুধ ব্যবসায় মনোনিবেশ করবেন। এ কারণে রাজপরিবারের সরকারি দায়িত্ব ও তার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে মার্থা রাজদায়িত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে রাজা পঞ্চম হ্যারল্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্থার রাজ–উপাধি আগের মতোই থাকবে। এর আগে মার্থা যত্নের সঙ্গে তার রাজদায়িত্ব পালন করেছেন।
আরেক বিবৃতিতে রাজকুমারী মার্থা জানান, তিনি গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানের গুরুত্বের বিষয়ে বেশ সচেতন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার বিকল্প ওষুধ প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় সহায়তা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক হয়ে উঠবে।
রাজকুমারী বলেন, একজন আলাদা ব্যক্তি ও রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের মধ্যে পার্থক্য করা খুব জরুরি ছিল।

২০০২ সালে নরওয়েজিয়ান লেখক ও শিল্পী আরি বেহনকে বিয়ে করেন রাজকুমারী মার্থা। এই দম্পতির তিন কন্যাসন্তান আছে। ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিষণ্ণতায় ভুগে ২০১৯ সালের বড়দিনে আরি বেহন আত্মহত্যা করেন।
গত জুনে ডুরেকের সঙ্গে রাজকুমারী মার্থার সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মার্থা তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানিয়েছিলেন।

ডুরেক একজন স্বঘোষিত ‘শ্যামন’ (আধ্যাত্মিক গুরু)। হলিউডে ডুরেক ব্যাপক জনপ্রিয়। ডুরেকের সঙ্গে মার্থার সম্পর্কের খবর নরওয়ে জুড়ে ব্যাপক হইচই তৈরি করেছিল। ডুরেকের আগের পাঁচ প্রজন্মও শ্যামন ছিলেন।
ডুরেক ভেরেটের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তিনি নিজেকে ‘বর্তমান যুগের স্বপ্নদর্শী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি ‘আধ্যাত্মিকতাকে রহস্যময় করে তোলেন’। তিনি মার্কিন অভিনেত্রী গ্যায়নেথ পালট্রো ও নিনা দোবরেভকে তার কাজ দিয়ে প্রভাবিত করেছিলেন।
ডুরেক ভেরেট আফ্রো-আমেরিকান। তিনি নিজেকে ‘ষষ্ঠ প্রজন্মের আধ্যাত্মিক গুরু’ হিসেবে পরিচয় দেন। তার দাবি, তিনি মৃত ব্যক্তিদের থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন হামলার দুই বছর আগেই তিনি এর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 














