ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি-না জানা যাবে শনিবার

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার কথা। সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে ফের বৈঠকে বসছে আন্তঃমন্ত্রণালয়।
আগামীকাল শনিবার (১৩ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক, ইউজিসি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। সে জন্য শনিবার বিকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়ছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, আরও দুই সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হতে পারে। তখন সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে। তবে সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তো আশঙ্কার কথা।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিফতরের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতির সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরা জানিয়েছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে দ্রুত গতিতে। তবে স্কুল-কলেজ খুললে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় কথা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা আমাদের জানিয়েছেন। এ উদ্বেগের বিষয়টি শনিবারের সভায় তোলা হবে।
এদিকে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া খুললেও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আকারে খোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেটা বিবেচনা করে একটা ঘোষণা দেব। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে আমরা।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) মন্ত্রীসভায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মে-জুন ও জুলাইয়ে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার  তিনদিন পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা সংক্রমণের হার।
Tag :

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি-না জানা যাবে শনিবার

Update Time : ০৬:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মার্চ ২০২১
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার কথা। সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার আবারো ঊর্ধ্বমুখি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে ফের বৈঠকে বসছে আন্তঃমন্ত্রণালয়।
আগামীকাল শনিবার (১৩ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক, ইউজিসি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। সে জন্য শনিবার বিকালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়ছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, আরও দুই সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হতে পারে। তখন সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে। তবে সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তো আশঙ্কার কথা।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিফতরের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতির সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরা জানিয়েছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে দ্রুত গতিতে। তবে স্কুল-কলেজ খুললে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় কথা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা আমাদের জানিয়েছেন। এ উদ্বেগের বিষয়টি শনিবারের সভায় তোলা হবে।
এদিকে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া খুললেও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আকারে খোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেটা বিবেচনা করে একটা ঘোষণা দেব। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে আমরা।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) মন্ত্রীসভায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মে-জুন ও জুলাইয়ে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার  তিনদিন পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা সংক্রমণের হার।