ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি,জামায়াতের প্রতি সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ Time View

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি। এছাড়া ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন করছে জামায়াতে ইসলামীকে। সম্প্রতি এক জরিপে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের এ চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক জরিপটির ফলাফল তুলে ধরা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। বিপরীতে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কেউ কেউ ভোট না দেওয়ার কথাও বলেছেন।

জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দুর্নীতিকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।

অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশা- নেতৃত্বে এমন কেউ আসুক, যিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম। এছাড়া ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে সহমর্মিতা, জবাবদিহিতা এবং শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভোটার একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য নেন। এতে প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

জরিপে নির্বাচনের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কারচুপি এবং ব্যালট ভর্তি—এ ধরনের আশঙ্কা প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।

জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অনেক ভোটারের কাছে প্রার্থীই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রার্থীকে বিবেচনায় নেবেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতেই ভোট দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল—দুটোকেই বিবেচনায় রাখেন।

সারা দেশের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি,জামায়াতের প্রতি সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

Update Time : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি। এছাড়া ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন করছে জামায়াতে ইসলামীকে। সম্প্রতি এক জরিপে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের এ চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক জরিপটির ফলাফল তুলে ধরা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। বিপরীতে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কেউ কেউ ভোট না দেওয়ার কথাও বলেছেন।

জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দুর্নীতিকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।

অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশা- নেতৃত্বে এমন কেউ আসুক, যিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম। এছাড়া ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে সহমর্মিতা, জবাবদিহিতা এবং শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভোটার একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য নেন। এতে প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

জরিপে নির্বাচনের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কারচুপি এবং ব্যালট ভর্তি—এ ধরনের আশঙ্কা প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।

জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অনেক ভোটারের কাছে প্রার্থীই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রার্থীকে বিবেচনায় নেবেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতেই ভোট দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল—দুটোকেই বিবেচনায় রাখেন।

সারা দেশের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।