ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আবারও পঞ্চগড় থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৯৪ Time View

সীমান্ত এলাকা পঞ্চগড় থেকে আবারও দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। যেটি অবস্থিত সীমান্তের ওপারে ভারতে।

আগের দিন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ও বিকেলেও আংশিকভাবে দেখা গিয়েছিলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে মঙ্গলবারের দৃশ্য ছিলো আরও স্পষ্ট, দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর।

স্থানীয়রা জানান, শরৎকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা এক বিরল ঘটনা। সাধারণত অক্টোবর মাসে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং তখন সহজে দেখা মেলে দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু এবার সেপ্টেম্বরের শুরুতেই টানা দুদিন এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

চাকলাহাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতি বছরই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য অপেক্ষা করি। সাধারণত শীতের একটু আগে বা শীতের শুরুতে ভালোভাবে দেখা যায়। এবার এত তাড়াতাড়ি দেখা মিলবে ভাবিনি। আজ বিকালে হঠাৎই পাহাড়ের চূড়াটা দেখা গেল। মনে হচ্ছিলো, হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলবো। সত্যি, এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

জালাসী এলাকার শিরিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। সাদা বরফে মোড়া পাহাড়টা এত সুন্দর লাগছিলো যে মনে হচ্ছিলো, একেবারে হাতের কাছেই আছে। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি। আমার বাচ্চারা তো খুশিতে লাফিয়ে উঠেছে।

হাফিজাবাদ গ্রামের কৃষক নাঈম গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষেতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আকাশটা অন্যরকম লাগছে। তাকিয়ে দেখি সাদা বরফে ঢাকা বিশাল এক পাহাড়। জীবনে কতো কষ্ট করি, কিন্তু এই দৃশ্য কয়েক মিনিট দেখেই মনে হলো সব ক্লান্তি চলে গেছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন হচ্ছে। গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়ার মিশ্রণের কারণে গত দুদিন আকাশ পরিষ্কার ছিলো। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে আবারও মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তবে অক্টোবর থেকে আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে। তখন প্রায় প্রতিদিনই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া অঞ্চল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন এই পর্বতের ঝলক দেখার জন্য। বিশেষ করে ভোরবেলা কীংবা বিকেলের শেষ প্রহরে সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলো যখন সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে, তখন দৃশ্যটি হয়ে ওঠে স্বপ্নময়।

স্থানীয়রা মনে করছেন, শীতের আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন ঝলক পর্যটনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয়

শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আবারও পঞ্চগড় থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

Update Time : ০৩:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সীমান্ত এলাকা পঞ্চগড় থেকে আবারও দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। যেটি অবস্থিত সীমান্তের ওপারে ভারতে।

আগের দিন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ও বিকেলেও আংশিকভাবে দেখা গিয়েছিলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে মঙ্গলবারের দৃশ্য ছিলো আরও স্পষ্ট, দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর।

স্থানীয়রা জানান, শরৎকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা এক বিরল ঘটনা। সাধারণত অক্টোবর মাসে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং তখন সহজে দেখা মেলে দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু এবার সেপ্টেম্বরের শুরুতেই টানা দুদিন এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

চাকলাহাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতি বছরই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য অপেক্ষা করি। সাধারণত শীতের একটু আগে বা শীতের শুরুতে ভালোভাবে দেখা যায়। এবার এত তাড়াতাড়ি দেখা মিলবে ভাবিনি। আজ বিকালে হঠাৎই পাহাড়ের চূড়াটা দেখা গেল। মনে হচ্ছিলো, হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলবো। সত্যি, এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

জালাসী এলাকার শিরিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। সাদা বরফে মোড়া পাহাড়টা এত সুন্দর লাগছিলো যে মনে হচ্ছিলো, একেবারে হাতের কাছেই আছে। কয়েক মিনিটের জন্য হলেও আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি। আমার বাচ্চারা তো খুশিতে লাফিয়ে উঠেছে।

হাফিজাবাদ গ্রামের কৃষক নাঈম গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষেতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আকাশটা অন্যরকম লাগছে। তাকিয়ে দেখি সাদা বরফে ঢাকা বিশাল এক পাহাড়। জীবনে কতো কষ্ট করি, কিন্তু এই দৃশ্য কয়েক মিনিট দেখেই মনে হলো সব ক্লান্তি চলে গেছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন হচ্ছে। গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়ার মিশ্রণের কারণে গত দুদিন আকাশ পরিষ্কার ছিলো। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে আবারও মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তবে অক্টোবর থেকে আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে। তখন প্রায় প্রতিদিনই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া অঞ্চল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন এই পর্বতের ঝলক দেখার জন্য। বিশেষ করে ভোরবেলা কীংবা বিকেলের শেষ প্রহরে সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়াগুলো যখন সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে, তখন দৃশ্যটি হয়ে ওঠে স্বপ্নময়।

স্থানীয়রা মনে করছেন, শীতের আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন ঝলক পর্যটনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।