ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জ্বালানি তেল পাচার রোধ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে সরকারের তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু ইউএনজিএ ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে: তেহরান কোথাও গভীর ভালোবাসা, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা, আবার কোথাও রয়েছে আক্ষেপ, ক্ষোভ ও আত্মসম্মান;উদ্ধার মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠি ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশটি ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

আরাফার দিনের আমল -মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান

‘ইয়াওমে আরাফা’ অর্থাৎ যিলহজ্বের নয় তারিখের এই দিনে সম্মানিত হাজ্বীগণ আরাফার ময়দানে উকূফ (অবস্থান) করেন। পবিত্র হজ্ব পালনের একটি ফরয বিধান হচ্ছে ‘উকূফে আরাফা’ তথা আরাফায় অবস্থান করা এবং হজ্বের মূল দিন হচ্ছে যিলহজের নয় তারিখ ‘ইয়াওমে আরাফা’। এ দিনে বান্দার দিকে আল্লাহর রহমতের জোয়ার প্রবলবেগে ধাবিত হয়। অসংখ্য বান্দাকে তিনি এ দিনে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতের ফয়সালা করে দেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন অর্থ: আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবতীর্ হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের নিকট গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৮ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ফিরিশতাদেরকে এভাবে বলতে থাকেন। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত আরেক বর্ণনায় এসেছে অর্থ: আল্লাহ তাআলা নিকটতম আসমানে আসেন এবং পৃথিবীবাসীকে নিয়ে আসামানের অধিবাসী অর্থাৎ ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। বলেন, দেখ তোমরা আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোয় মলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী। অথচ তারা আমার আযাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৮৫৩ এ দিনে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন কুরআনে কারীমের সর্বশেষ আয়াত- অর্থ: আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। সূরা মায়েদা (৫) : ৩ হাদীসের কিতাবে হযরত উমর রা.-এর সুন্দর একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে একবার এক ইহুদী হযরত উমর রা.-এর নিকট এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনারা আপনাদের কিতাব থেকে একটি আয়াত তিলাওয়াত করে থাকেন। এমন কোনো আয়াত যদি আমাদের ইহুদীদের প্রতি নাযিল হত তাহলে আমরা আয়াত নাযিলের সেই দিনটিকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করতাম। হযরত উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ সে আয়াত? বলল, আয়াতটি হচ্ছে – অর্থ: আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। সূরা মায়েদা (৫) : ৩ হযরত উমর রা. একথা শুনে বললেন আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কোন্ দিন কোন্ সময় কোন্ স্থানে এ আয়াত নাযিল হয়েছেÑ তা আমি জানি। জুমার দিন সন্ধ্যায় এ আয়াত নাযিল হয়েছে। নবীজী তখন আরাফায় অবস্থান করছিলেন। (দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫, ৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০১৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮৮, ২৭২) তো আল্লাহ তাআলা এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত এ দিনে নাযিল করেছেন। এ দিনের ব্যাপারে যেভাবে মাগফিরাতের ঘোষণা এসেছে তেমনি হাদীসে এ দিনের রোযার ব্যাপারেও এসেছে বিশেষ ফযীলতের কথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহ্র কাছে প্রত্যাশা রাখি যে, তিনি পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২ হাদীসে এ দিনের দুআকেও শ্রেষ্ঠ দুআ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। নবীজী বলেন শ্রেষ্ঠ দুআ (ও যিকির) হচ্ছে আরাফার দুআ। এ দিনের দুআ-যিকির হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দুআ, যা আমি এবং আমার পূর্ববতীর্ নবীগণ করেছেন। জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৮৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৭৭৮ মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে নেক আমলের মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন! আমীন।

লেখক: তরুণ আলেমেদ্বীন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, নগরকান্দা, ফরিদপুর।

Tag :

জ্বালানি তেল পাচার রোধ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে সরকারের তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত

আরাফার দিনের আমল -মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান

Update Time : ০৫:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১

‘ইয়াওমে আরাফা’ অর্থাৎ যিলহজ্বের নয় তারিখের এই দিনে সম্মানিত হাজ্বীগণ আরাফার ময়দানে উকূফ (অবস্থান) করেন। পবিত্র হজ্ব পালনের একটি ফরয বিধান হচ্ছে ‘উকূফে আরাফা’ তথা আরাফায় অবস্থান করা এবং হজ্বের মূল দিন হচ্ছে যিলহজের নয় তারিখ ‘ইয়াওমে আরাফা’। এ দিনে বান্দার দিকে আল্লাহর রহমতের জোয়ার প্রবলবেগে ধাবিত হয়। অসংখ্য বান্দাকে তিনি এ দিনে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতের ফয়সালা করে দেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন অর্থ: আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবতীর্ হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের নিকট গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৮ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ফিরিশতাদেরকে এভাবে বলতে থাকেন। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত আরেক বর্ণনায় এসেছে অর্থ: আল্লাহ তাআলা নিকটতম আসমানে আসেন এবং পৃথিবীবাসীকে নিয়ে আসামানের অধিবাসী অর্থাৎ ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। বলেন, দেখ তোমরা আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোয় মলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী। অথচ তারা আমার আযাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৮৫৩ এ দিনে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন কুরআনে কারীমের সর্বশেষ আয়াত- অর্থ: আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। সূরা মায়েদা (৫) : ৩ হাদীসের কিতাবে হযরত উমর রা.-এর সুন্দর একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে একবার এক ইহুদী হযরত উমর রা.-এর নিকট এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনারা আপনাদের কিতাব থেকে একটি আয়াত তিলাওয়াত করে থাকেন। এমন কোনো আয়াত যদি আমাদের ইহুদীদের প্রতি নাযিল হত তাহলে আমরা আয়াত নাযিলের সেই দিনটিকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করতাম। হযরত উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ সে আয়াত? বলল, আয়াতটি হচ্ছে – অর্থ: আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। সূরা মায়েদা (৫) : ৩ হযরত উমর রা. একথা শুনে বললেন আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কোন্ দিন কোন্ সময় কোন্ স্থানে এ আয়াত নাযিল হয়েছেÑ তা আমি জানি। জুমার দিন সন্ধ্যায় এ আয়াত নাযিল হয়েছে। নবীজী তখন আরাফায় অবস্থান করছিলেন। (দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫, ৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০১৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮৮, ২৭২) তো আল্লাহ তাআলা এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত এ দিনে নাযিল করেছেন। এ দিনের ব্যাপারে যেভাবে মাগফিরাতের ঘোষণা এসেছে তেমনি হাদীসে এ দিনের রোযার ব্যাপারেও এসেছে বিশেষ ফযীলতের কথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহ্র কাছে প্রত্যাশা রাখি যে, তিনি পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২ হাদীসে এ দিনের দুআকেও শ্রেষ্ঠ দুআ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। নবীজী বলেন শ্রেষ্ঠ দুআ (ও যিকির) হচ্ছে আরাফার দুআ। এ দিনের দুআ-যিকির হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দুআ, যা আমি এবং আমার পূর্ববতীর্ নবীগণ করেছেন। জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৮৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৭৭৮ মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে নেক আমলের মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন! আমীন।

লেখক: তরুণ আলেমেদ্বীন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, নগরকান্দা, ফরিদপুর।