ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফরিদপুরের পদ্মায় মাছ ধরা বড়শিতে উঠল কুমির।। জনমনে আতঙ্ক। ফরিদপুরে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ১৫৪ শিক্ষার্থীর ওএমআর শিট গায়েব কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব নারীদের এবার এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর অত্যাধুনিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা প্রযুক্তি নকলের কাজ শুরু করেছে ইরান : আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি আবার চালু করাসহ চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের একটি নতুন প্রস্তাব যশোর সফরে তারেক রহমান এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী, ব্যাহত হচ্ছে খাদ্যশৃঙ্খল

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। ভোক্তাপণ্য থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও খনি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। বাড়ছে খাদ্যের দাম। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্যশৃঙ্খল। সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি আগামী কয়েক মাসে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এফএওর মাসিক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ বা খাদ্যমূল্য সূচক অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি তুলনায় মার্চে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক মার্চে ১২৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী।

মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচে। শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল এবং চিনিসহ সব প্রধান পণ্যের দামই এ সময়ে বেড়েছে। এফএও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাম তেলের দাম এখন সয়াবিন তেলকেও ছাড়িয়ে গেছে, যার পেছনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধির বিষয়টি মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে মাংসের মূল্য সূচক মার্চে গড়ে ১২৭ দশমিক ৭ পয়েন্ট হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য সূচক মার্চ মাসে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১২০ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তবে এটি ২০২৫ সালের মার্চের স্তরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে।

এফএওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিনি বা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল হয়তো আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকবে।

ফরাসি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্যানোন জানিয়েছে, ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসা শিশু খাদ্যের চালানগুলো এ যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এখন তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাদ্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। তবে বৈশ্বিকভাবে পর্যাপ্ত শস্য মজুত থাকায় পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে অস্থিরতা চলমান থাকলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, তাহলে কৃষকরা উৎপাদনে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। তারা চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে, কিংবা ফসল পরিবর্তন করতে পারেন।

Tag :
জনপ্রিয়

ফরিদপুরের পদ্মায় মাছ ধরা বড়শিতে উঠল কুমির।। জনমনে আতঙ্ক।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী, ব্যাহত হচ্ছে খাদ্যশৃঙ্খল

Update Time : ০৩:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। ভোক্তাপণ্য থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও খনি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। বাড়ছে খাদ্যের দাম। ব্যাহত হচ্ছে খাদ্যশৃঙ্খল। সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি আগামী কয়েক মাসে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এফএওর মাসিক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ বা খাদ্যমূল্য সূচক অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি তুলনায় মার্চে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক মার্চে ১২৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী।

মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খরচে। শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল এবং চিনিসহ সব প্রধান পণ্যের দামই এ সময়ে বেড়েছে। এফএও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাম তেলের দাম এখন সয়াবিন তেলকেও ছাড়িয়ে গেছে, যার পেছনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধির বিষয়টি মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে মাংসের মূল্য সূচক মার্চে গড়ে ১২৭ দশমিক ৭ পয়েন্ট হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য সূচক মার্চ মাসে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১২০ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তবে এটি ২০২৫ সালের মার্চের স্তরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে।

এফএওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিনি বা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল হয়তো আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকবে।

ফরাসি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্যানোন জানিয়েছে, ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসা শিশু খাদ্যের চালানগুলো এ যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এখন তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাদ্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। তবে বৈশ্বিকভাবে পর্যাপ্ত শস্য মজুত থাকায় পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে অস্থিরতা চলমান থাকলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, তাহলে কৃষকরা উৎপাদনে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। তারা চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে, কিংবা ফসল পরিবর্তন করতে পারেন।